January 10, 2026

চাপেও ছুটছে অর্থনীতি!!

 চাপেও ছুটছে অর্থনীতি!!

গোটা বিশ্বজুড়ে এই মুহূর্তে একটা অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আর এই অস্থির পরিস্থিতি, ফের একবার বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কাকে উসকে দিয়েছে। যতদিন যাচ্ছে, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। যে কোনও মুহূর্তে যুদ্ধ বাধার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশের অভিমত, বিশ্বজুড়ে এই অস্থিরতা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প এখন প্রায় প্রতিদিনই কাউকে না কাউকে হুমকি দিয়ে চলেছে। সেই সাথে মার্কিন আগ্রাসন নীতিকে আরও জোরদার করে একপ্রকার খবরদারি শুরু করেছে। তার ভূমিকা অনেকটা 'দাদাগিরি' স্টাইলের। ভারতও তার নিশানায়। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় বসেই ভারতের বিরুদ্ধে একের পর এক পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছেন। কখনও হুমকি, কখনও শুল্ক চাপিয়ে, কখনও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করে কটাক্ষ করা, কখনও অসম্মানজনক মন্তব্য করে ভারতকে অপমান করা। গত প্রায় বছর খানেক ধরে এসবই করে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এত কিছু করা সত্ত্বেও, ভারত এবং ভারত সরকারকে বাগে আনতে ব্যর্থ ট্রাম্প। উল্টো ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার সময়েও ভারতের অর্থনীতি দুর্বার গতিতে দৌড়াচ্ছে। এই দৌড়ে ভারতের সামনে এখন আমেরিকা-চিন ছাড়া সবাই পেছনে। ২৬ লক্ষ কোটি ডলারের অর্থনীতির চূড়ায় উঠবে ভারত! নতুন বছরের শুরুতেই - ভারতের অর্থনীতি নিয়ে এমন চমকপ্রদ ভবিষ্যৎবাণী রিপোর্ট প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা 'আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং'। তাদের দাবি, স্বাধীনতার একশ বছরে ২৬ লক্ষ কোটি ডলার অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে ভারত। সেই ঐতিহাসিক সাফল্যের দিকে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে ভারত।
একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক সংঘাত। অন্যদিকে চিনের সাথে বিপুল বাণিজ্যিক ঘাটতি। ঘরোয়া উৎপাদনের ক্ষেত্রেও রয়েছে নানাবিধ সমস্যা। তা সত্ত্বেও বেশিরভাগ দেশের তুলনায় ছুটছে ভারতের অর্থনীতি। এখানেই শেষ নয়, 'আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং' মনে করে ২০৩০ সালের মধ্যেই আমেরিকা এবং চিনের পর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হবে ভারত।বর্তমান অবস্থা বজায় থাকলে অচিরেই জার্মানিকে ছাপিয়ে যাবে ভারত।ভারতের অর্থনীতির এই সু-স্বাস্থ্য নিয়ে আশার বাণী শুনিয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার (আইএমএফ) বা ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ডও। আইএমএফ দাবি করেছে, শত প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ভারতের বৃদ্ধির সূচক ৬.৫ শতাংশের নীচে যাবে না। গত বছরই জাপানকে ছাপিয়ে বিশ্ব অর্থনীতির ক্রমতালিতায় চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে ভারত।আইএমএফের অনুমান ২০২৮ সালের মধ্যে এই দৌড়ে পিছিয়ে পড়বে তিন নম্বরে থাকা জার্মানি।গত বছরের এপ্রিল থেকে মার্কিন প্রশাসনের সাথে ভারতের শুল্ক যুদ্ধ শুরু হয়। একের পর এক শুল্ক চাপানোর পরও যে ভারতের অর্থনীতিতে তেমন কোনও প্রভাব পড়েনি, তার প্রমাণ সরকারী তথ্যেই উঠে এসেছে। কেন্দ্র সরকার জানিয়েছে, চলতি অর্থ বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৮.২ শতাংশ। যা যে কোনও আর্থিক বিশেষজ্ঞ বা প্রতিষ্ঠানের অনুমানের চেয়ে অনেকটাই বেশি।এখন সব থেকে বড় প্রশ্ন এবং আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠেছে, এত অস্থিরতা এবং নানা ধরনের চাপ থাকা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতি কীভাবে দৌড়াচ্ছে? তামাম অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, ভারতের বিপুল পরিমাণ জনসংখ্যা এর অন্যতম কারণ। বিপুল জনসংখ্যার কারণে অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং পরিষেবা খাতে আর্থিক গতি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে ভারত। বেসরকারী সংস্থাগুলিও বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের দিকে অধিক নজর দিয়েছে। এছাড়াও ভারতের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হলো দেশের বিশাল বাজার। ফলে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মার্কিন শুল্ক নীতির চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও,চাহিদায় এতটুকুও ফাটল ধরতে পারেনি বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *