বুধবার | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে রাজ্যের কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত তহবিল দাবি করলেন কৃষিমন্ত্রী

 কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে রাজ্যের কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত তহবিল দাবি করলেন কৃষিমন্ত্রী

দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ২৪ ফেব্রুয়ারী: রাজ্যের ও কৃষক কল্যাণে অতিরিক্ত বরাদ্দ দাবি করলেন কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতনলাল নাথ। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের সাথে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী রতনলাল নাথ। বৈঠকে তিনি ত্রিপুরার কৃষকদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন প্রকল্পে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি ২০২৬-২৭অর্থবছরে আর কেভিওয়াই-ডিপিআর প্রকল্পের অধীনে ৩০,০০০ হেক্টর হাইব্রিড ধান চাষের সুবিধা দেওয়ার জন্যও অনুরোধ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে। উল্লেখ্য, এদিন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ত্রিপুরার কৃষি ও কৃষক কল্যাণ বিভাগের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আর্থিক পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। এই সভায় আরও ১৮টি রাজ্যের কৃষিমন্ত্রীরাও অংশ নিয়েছেন। এদিন সভায় কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান রাজ্যের আর্থিক শৃঙ্খলা এবং ব্যয়ের ধারায় সন্তোষ ব্যক্ত করেন বলে জানান কৃষিমন্ত্রী রতনলাল নাথ।

এদিনের সভায় মন্ত্রী রতনলাল নাথ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় কৃষি উন্নয়ন যোজনা (PM-KVY) আড়ম্বরিত প্রকল্পের অধীনে রাজ্য ইতিমধ্যেই ৭৯ শতাংশ তহবিল ব্যয় করেছে এবং কৃষি উৎপাদন যোজনা আড়ম্বরিত প্রকল্পের অধীনে ৬১ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক চাষ প্রকল্পেও ৬১ শতাংশ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। রাজ্য সরকার চলতি অর্থবছরে প্রাপ্ত সমস্ত তহবিল ব্যয় করার পরিকল্পনা করছে। তাই কৃষকদের সুবিধার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ জরুরি। তিনি বলেন, ত্রিপুরা রাজ্য দেশের শীর্ষ ৫টি রাজ্যের মধ্যে রয়েছে ব্যয়ের ক্ষেত্রে।

বর্তমান রাজ্য সরকার কৃষি ক্ষেত্রে যান্ত্রিকীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এই জন্য মন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের জন্য আরও ২০ কোটি টাকা অনুমোদনের দাবি জানিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, রাজ্যে ফার্ম আইডি তৈরির কাজ চলছে। যেহেতু রাজ্যের ১,২৫,০০০-এর বেশি উপজাতীয় কৃষক পাট্টার অধিকারী, তাই তাদের জন্য এই পরিরচয়পত্র প্রদানের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। মন্ত্রী আরও জানান, ত্রিপুরার প্রায় ৫০ শতাংশ জমিতে ধান চাষ হয়। রাজ্যের অধিকাংশ কৃষকের স্বার্থ এবং খাদ্য নিরাপত্তাকে বিবেচনা করে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা মিশন প্রকল্পে ধান চাষের জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। রাজ্যের প্রায় ৯৬ শতাংশ কৃষক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক। তাই আর কেভিওয়াই, এফএনএস জাতীয় পাম তেল মিশন ইত্যাদির প্রকল্পে বর্তমান ব্যয় মান বৃদ্ধির দাবিও জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী সমস্ত দাবির বৈধতা মেনে নেন এবং জানান যে, এগুলো শীঘ্রই পূরণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় তহবিল অনুমোদন করা হবে। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় সচিব অপূর্ব রায়, অধিকর্তা ড. ফণিভূষণ জমাতিয়া এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *