কাঁটাতারে মরচে, সীমান্ত রক্ষায় বাঁশের বেড়া!

অনলাইন প্রতিনিধি :-ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। প্রায় এক দশক পূর্বে নির্মিত কাঁটাতারের বেড়া আজ মরচে ধরে ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছেছে। পাচারকারীদের দৌরাত্ম ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বহু স্থানে সীমান্ত কার্যত উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় সীমান্ত রক্ষায় বাধ্য হয়ে বিএসএফ এখন বাঁশের বেড়া দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। সোনামুড়া মহকুমার কলমচৌড়া থানার আশাবাড়ি থেকে রহিমপুর বিওপি পর্যন্ত বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকায় চোখে পড়ছে এই দৃশ্য। কাঁটাতারের বেড়া ভেঙে যাওয়া কিংবা পাচারকারীদের হাতে কেটে ফেলার ফলে বহু জায়গায় শূন্যতা তৈরি হয়েছে। ফলে সীমান্ত অরক্ষিত হয়ে পড়ায় অনুপ্রবেশ ও পাচার বাণিজ্য ভয়াবহ মাত্রায় বেড়ে উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাঁশের বেড়া দিয়ে সীমান্তে অস্থায়ী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ প্রায় দশ বছর আগে সোনামুড়ার সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ, পাচার ও সন্ত্রাসী যাতায়াত রোধে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই বেড়া আজ জং ধরে ভেঙে পড়েছে, কোথাও বা পাচারকারীরা কেটে দিয়েছে। সীমান্তের বিভিন্ন অংশে ৫০ থেকে ১৫০ মিটার পর্যন্ত ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়ে গেছে। এই সুযোগে পাচারকারীরা অবাধে কার্যক্রম চালাচ্ছে।অন্যদিকে,সীমান্তে নিয়োজিত বিএসএফের জওয়ানের
সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কমে গেছে। জওয়ানরা নিজেরাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পাচারকারীদের এতটাই দৌরাত্ম বেড়েছে যে তারা খোদ সীমান্তরক্ষী বাহিনীকেও উপেক্ষা করছে। এই প্রেক্ষাপটে, সীমান্ত রক্ষায় গ্রামীণ শ্রমিকদের সহায়তায় বাঁশের বেড়া লাগাতে শুরু করেছে বিএসএফ। কলমচোড়া থানার আশাবাড়ি থেকে রহিমপুর পর্যন্ত যেসব এলাকায় বেড়া ভেঙে পড়েছে, সেখানে বাঁশের বেড়া দেওয়া হচ্ছে। যদিও এটি স্থায়ী সমাধান নয়, তবু সাময়িকভাবে অন্তত পাচার ও অনুপ্রবেশ রোধে এটি একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় মহলে এই উদ্যোগকে ‘নজিরবিহীন’ বলেই আখ্যায়িত করা হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কাঁটাতারের বেড়া আজ কেন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকার্যকর হয়ে পড়বে? ভারত সরকারের উদাসীনতা এবং সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়নে গাফিলতির জন্যই আজ সীমান্ত রক্ষায় বাঁশের বেড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও বাঁশের বেড়া দিয়ে সীমান্তকে অস্থায়ীভাবে সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে, তবে বিশেষজ্ঞ মহলের আশঙ্কা যেভাবে পাচারকারীরা কাঁটাতারের বেড়াই কাটতে সক্ষম, সেখানে বাঁশের বেড়া টিকবে কতদিন, তা নিয়েই প্রশ্ন রয়ে গেছে।
সীমান্তের মানুষের কথায়, বাঁশের বেড়া সাময়িক প্রতিরোধ হতে পারে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান নয়। এখনই নতুন কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও জওয়ান বাড়ানো ছাড়া সীমান্ত রক্ষা সম্ভব নয়।