এডিসি, আটাশের বিধানসভায় ২০ আসনই মথার হবে: প্রদ্যোত!!
অনলাইন প্রতিনিধি :- ত্রিপুরা রাজ্যের রাজনীতিতে জনজাতি এলাকা বিজেপিকে আক্রমণ করা হয়। মথার সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণের উপস্থিতি এবং তার ভাষণে উদ্দীপ্ত ছিল কর্মী সমর্থকেরা। সভায় মানুষের দখলে মরিয়া তিপ্রা মথা দল। শনিবার জগবন্ধু পাড়া হাইস্কুল মাঠে জমায়েত সভায় নাম না করে বড় শরিক উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল। বিজেপির সাথে জোট গড়ে সরকারে যোগ দিলেও সম্প্রতি ককবরক রোমান স্ক্রিপ্ট, তিপ্রাসা অ্যাকর্ড এবং আদিবাসী অধিকার নিয়ে বিজেপি সরকারের সাথে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে, যা বুবাগ্রার ভাষণে স্পষ্ট ছিল এদিন।
সভায় প্রধান অতিথি প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিধায়িকা নন্দিতা দেববর্মা রিয়াং, ইএম রাজেশ ত্রিপুরা, রাজেশ্বর দেববর্মা, সিকে জমাতিয়া, প্রাক্তন বিধায়ক ধনঞ্জয় ত্রিপুরা সহ স্থানীয় নেতৃত্ব। সভায় প্রদ্যোত কিশোর আগামী দিনে তিপ্রা মথা বিধানসভা দখল করবে বলে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। কর্মীদের একত্রিত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আমাদের শক্তি আমাদের ঐক্যে। সকলে মিলে থাকলে কোনো শক্তি আমাদের আটকাতে পারবে না। নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তিপ্রাসা গরিব, কিন্তু তোমার কাছে টাকা আছে। চলো আগামী নির্বাচনে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন আগামী নির্বাচনে সবকটি আসন মথার দখলে আসবে। এই ভাষণে কর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং তিপ্রা মথা জিন্দাবাদ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। প্রদ্যোতের এই চ্যালেঞ্জ রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের ঘটনায় তিপ্রা মথার যুব শাখা আন্দোলন করছে যা দলের জাতীয়তাবাদী অবস্থান শক্তিশালী করে। এছাড়া আদিবাসী অধিকার এবং উন্নয়নের দাবিতে দল সর্বদা সক্রিয়। প্রদ্যোতের ভাষণে আদিবাসীদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। জমায়েতে লোক সমাগম দেখে মনে হয়েছে তিপ্রা মথা জনজাতি এলাকায় তার জনভিত্তি আরও মজবুত করছে। বিজেপির সাথে জোট থাকা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি লক্ষ্য করে প্রদ্যোতের বর্শাফলক জোটে সংকট আরও বাড়বে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন আগামী দিনে তিপ্রা মথা কীভাবে তার প্রতিশ্রুতি পালন করে তা দেখার বিষয়। তবে একটা বিষয় স্পষ্ট- ত্রিপুরার রাজনীতিতে পাহাড় দখলের লড়াই আরও তীব্র হতে চলেছে।
