এআই সামিটে নাকাল উদ্যোক্তারা
দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ১৭ ফেব্রুয়ারী: খাবার খাওয়া যাচ্ছে না। কারণ খাদ্য স্টলগুলি নিচ্ছে না ডিজিটাল পেমেন্ট। দিতে হবে নগদ টাকা। যারা স্টল দিয়েছে, প্রদর্শনী করেছে, পণ্য নিয়ে এসেছে, প্রেজেন্টেশন দেবে বলে হাজির হয়েছে, তাদের জন্য না আছে জল, না আছে খাবার। শুধু মাত্র আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সের মতো আধুনিকতম এত বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলন প্রথমবার ভারতে হচ্ছে, অতএব বিশেষ করে যুবসমাজের উপচে পড়েছে। কিন্তু সেই ভিড় আগাম আন্দাজ করতে না পেরে প্রবল বিশৃঙ্খলা। বিরাট বড় লাইনে দাঁড়িয়ে হয়েছে কয়েক ঘণ্টা ধাক্কাধাক্কি, তর্কাতর্কি, ঝগড়া। এআই নিয়ে সর্বোত্তম সম্মেলনের কেন্দ্রস্থল, অথচ ডিজিটাল গ্যজেটস নিয়ে ঢোকা বারণ। সুরক্ষা ও নিরাপত্তার নামে প্রবল হেনস্তা। মঙ্গলবার থেকে এরকমই একঝাঁক অভিযোগ ও ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠল দিল্লীর ভারত মন্ডপমে আয়োজিত দেশের প্রথম আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স সম্মেলনস্থল। সাধারণ মানুষ, অতিথি, বিক্রেতা, প্রদর্শনী নিয়ে আসা বাণিজ্য কর্তাদের প্রত্যেকেই অভিযোগ করেছে যে, যে প্রচার এবং দাবি করা হয়েছে, তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এই অনুষ্ঠানকে মসৃণভাবে করার কোনও উদ্যোগ, পরিকল্পনা, প্রস্তুতি চোখে পড়েনি। বিব্রত হয়েছে মোদি সরকারও। যে সম্মেলনে মাইক্রোসফট থেকে গুগল।

বিশ্ব প্রযুক্তি মানচিত্রের বৃহৎ অংশের কর্তা, বিশেষজ্ঞ, প্রযুক্তিবিদরা হাজির থাকবে, সেই কেন্দ্রকে কেন সম্পূর্ণ সমস্যাহীন একটি ইভেন্ট হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যর্থ সরকার? এই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। বিরোধীদের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবল সমালোচনা ছড়িয়েছে। কংগ্রেস বলেছে, প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে প্রধান যে হল, সেটি সম্পূর্ণ ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। অথচ আগে বলা হয়নি কিছু। স্টল থেকে চুরির ঘটনা ঘটেছে অবাধ। গাড়ি নিয়ে আসবে মানুষ। অথচ তারা গাড়ির চাবি নিয়ে ঢুকতে পারবে না। কোথায় রাখবে চাবি? ডিজিটাল সম্মেলনে ল্যাপটপ আনা বারণ। মোদি সরকারের পক্ষে এই ফতোয়া দেওয়া সম্ভব। বিদেশিদের কাছে ভারতকে চরম অপমানিত ও অপ্রতিভ করার প্রবণতায় মোদি সরকার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বলে কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, এই সরকার একটা সামান্য সম্মেলন পর্যন্ত মসৃণভাবে আয়োজন করতে পারছে না। বিশৃঙ্খলা যে হয়েছে সে কথা কার্যত স্বীকারও করেছে সরকার। তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেছেন, এত বড় এক ইভেন্ট এই প্রথমবার। আমরা সবটাই মসৃণভাবে আয়োজনের চেষ্টা করছি। যারা নানাবিধ সমস্যায় পড়েছে, তাদের কাছে আমি দুঃখপ্রকাশ করছি। ক্ষমা প্রার্থনাও করেন তিনি। বৈষ্ণব বলেন, যাদের যা কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে, আমাদের জানান। আমরা সেই অনুযায়ী সেই সমস্যা দূর করব। কংগ্রেস বলেছে, এরকম কথা কোনো আধুনিক দেশের সরকার বলতে পারে? সম্মেলন যেখানে শুরু হয়ে গিয়েছে, সেই সময় হাজার হাজার মানুষকে বিপদে ফেলে এখন সরকার বলছে তারা চেষ্টা করবে সমস্যা দূর করার? এরকম অপেশাদারিত্ব অকল্পনীয়।
