জাতীয় অনূর্ধ্ব ১৫ মহিলা ক্রিকেট, সিকিমের কাছে পরাজিত ত্রিপুরা!!
উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে!!
গত বছরের (২০২৪) জুলাই-আগষ্ট মাস থেকে যে আন্দোলন ও হিংসার আগুনে বাংলাদেশ জ্বলছে, তা থামার কোনও লক্ষন দেখা যাচ্ছে না। বরং পরিস্থিতি দিনকে দিন আরও অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। গত বছর জুলাই মাসে ‘কোটা’ সংস্কারের দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, সেই আন্দোলনের গতিমুখ পাল্টে যায় অন্যদিকে। ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনকে রূপ দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উৎখাত করার হিংসাত্মক অভ্যুত্থান কার্যকলাপে। আর এর পিছনে যে হাসিনা বিরোধী গভীর ষড়যন্ত্র ছিল, তা কিছু দিনের মধ্যেই বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন রূপ পায় চরম ভারত বিদ্বেষী এবং ভারতের বিরুদ্ধে এক প্রকার যুদ্ধ ঘোষণা করার মতো। সেই বিদ্বেষ বাড়তে বাড়তে এমন এক জায়গায় পৌঁছে গেছে, যেখানে ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়ে যায়। সম্প্রতি বাংলাদেশের তথাকথিত এক ছাত্র যুব নেতার (আদতে কট্টর জিহাদি) মৃত্যুতে নতুন করে অশান্তি ছড়িয়েছে গোটা দেশে। সব থেকে বিস্ময়কর ঘটনা হলো, তথাকথিত এই ছাত্র যুব নেতার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভারত বিদ্বেষী মনোভাব এবং ভারতের বিরুদ্ধে অকারণ বিষোদগার চরম শিখরে পৌঁছে গেছে।

উল্লেখ্যযোগ্য বিষয় হচ্ছে, ভারত শুরু থেকে বাংলাদেশের পরিস্থিতির উপর তীক্ষ্ম নজর রেখে চলছিল। একই সাথে ভারত ধৈর্য্য ধরে কূটনৈতিক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছিল দু’দেশের মধ্যে পুনরায় সম্পর্ক উন্নত করার। সম্ভবত বাংলাদেশের তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস, ভারতের এই ধৈর্য্যশীলতাকে দুর্বলতা ভেবে বসেছেন। নতুন বা অন্য কোনও শক্তি তাকে ভারতের বিরুদ্ধে পরিচালিত করছে। এটা আরও স্পষ্ট হচ্ছে এ কারণে যে, বাংলাদেশের জামাত ও মৌলবাদী নেতাদের একের পর এক ভারত বিরোধী মন্তব্য ও হুঙ্কার । কেউ বলছে ভারতের ‘সেভেন সিস্টার’ দখল করে নেবে! কেউ বলছে ‘চিকেন নেক’ দখল করে নেবে। এককথায় যে যেমন পারছে, ভারতকে হুমকি দিয়ে চলেছে। স্বাভাবিকভাবেই জিহাদিদের এই লাগাতর হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।।এই উত্তেজনার প্রভাবে আক্রান্ত হয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে থাকা ভারতীয় হাই কমিশনগুলো। হাই কমিশনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেই ক্ষান্ত থাকে নি মৌলবাদী জিহাদিরা। হুমকি দিয়েছেন হাইকমিশনের ভিতরে ঢুকে ভাঙচুর চালানোর। চট্টগ্রামে হাইকমিশনে ইট পাটকেল ছোঁড়া হয়। এমনকি সহকারী হাইকমিশনারের বাড়িতেও হামলার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। এসব ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসে ভারত সরকার। নিরাপত্তাজনিত কারণে হ বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে থাকা ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় বাংলাদেশীদের ভারতে আসার ভিসা প্রদান। ভারতের এই সিদ্ধান্তে কে বেশি সমস্যায় পড়ে বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকরা। এর মধ্যে মঙ্গলবার থেকে দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন সহ শলিগুড়ি এবং আগরতলাস্থিত বাংলাদেশ সহকারি হাইকমিশন থেকে ভারতীয়দের ভিসা প্রদান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকার। এই ঘটনায় দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক মহলেও নতুন করে জল্পনা শুরু হয়। তবে ভারত যে কঠোর মনোভাব নিয়েছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। ভারত যে আর কোনও হুমকি বরদাস্ত করবে না, সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে। এই চলমান অস্থিরতা দুই দেশের সম্পর্ককে শেষ পর্যন্ত কোন দিকে নিয়ে যাবে তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলেও।
