জাতীয় অনূর্ধ্ব ১৫ মহিলা ক্রিকেট, সিকিমের কাছে পরাজিত ত্রিপুরা!!
ইউনুসের কাউন্টডাউন!
বাংলাদেশের তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান মোল্লা ইউনুস এর দিন কি অবশেষে শেষ হতে চলেছে?এই প্রশ্নই এখন সবথেকে আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক মহলে। শুধু তাই নয়, গত ক’দিনে ভারতের একপ্রকার নীরব কূটনৈতিক চাল এবং কৌশলে মোল্লা ইউনুস ও তার দোসররা যে বড় ধরনের চাপের মধ্যে পড়ে গেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। বিশেষ করে তথাকথিত বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারী, যারা মোল্লা ইউনুসকে ক্ষমতায় বসিয়েছে, তারাও এখন অনেকটা বেকায়দায় পড়ে গেছে বলে আন্তর্জাতিক মহলের অভিমত। অনেকেই দাবি করছে, ভারত ‘কাটা দিয়ে কাটা’ তোলার কৌশল অবলম্বন করেছে। আর এই কাটার নাম খালেদাপুত্র তারেক রহমান। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ সতের বছর লণ্ডনে কাটিয়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে ফিরেছেন। তাঁর প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে এদিন ঢাকায় বিএনপি কর্মী সমর্থকদের উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো।
দীর্ঘ সতের বছর পর জিয়া পুত্র তারকের প্রত্যাবর্তন এবং কার্যকলাপ নিয়ে এই মুহূর্তে সবথেকে বেশি আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে। তেমনি পুরো ঘটনাবলির উপর তীক্ষ্ণ নজর রেখে চলেছে ভারতও। ভারতের কূটনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করছে, বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কট্টরপন্থী মৌলবাদী শক্তি এবং আইএসআই এর মদতে পাকিস্তানপন্থী ইসলামিক শক্তিগুলি যেভাবে প্রভাব ও প্রসার বিস্তার করছে, তা রুখতে আপাতত জিয়া পুত্র তারেক রহমানের উপর ভরসা করা ছাড়া উপায় নেই। নয়াদিল্লী মনে প্রানে চাইছে, কোনও অবস্থাতেই যেন বাংলাদেশ কট্টরপন্থীদের হাতে চলে না যায়। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী এবং ভারত বিরোধী শক্তিগুলি যেন কোনও অবস্থাতেই বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসতে না পারে। ভারতের সামনে এখন এটাই একমাত্র লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যে। উদ্দেশ্য সফল না হলে, আগামী দিন বাংলাদেশ ভাররে জন্য মারাত্মক ঝুঁকি এবং মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠবে। এ নিয়ে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই।
২০০৭সালের ১১ জানুয়ারী বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল। তখন বাংলাদেশের শাসনক্ষমতা চলে গিয়েছিল সেনাবাহিনী সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের হাতে। সেই সময়েই দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন জিয়া পুত্র তারেক রহমান। ১৮ মাস জেলে থাকার পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। মুক্তি পাওয়ার ঠিক ৮ দিনের মাথায় ১১ সেপ্টেম্বর তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে লণ্ডনে পাড়ি দিয়েছিলেন। এতদিন ব্রিটেনেই স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে এক প্রকার স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারী বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল।তখন বাংলাদেশের শাসনক্ষমতা চলে গিয়েছিল সেনাবাহিনী সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের হাতে। সেই সময়েই দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন জিয়া পুত্র তারেক রহমান। ১৮ মাস জেলে থাকার পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। মুক্তি পাওয়ার ঠিক ৮ দিনের মাথায় ১১ সেপ্টেম্বর তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে লণ্ডনে পাড়ি দিয়েছিলেন। এতদিন ব্রিটেনেই স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে এক প্রকার স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন।
২০০৮ সালে ডিসেম্বরে বাংলাদেশে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। পরবর্তী কালে নানা ঘটনায় তারেকের বিরুদ্ধে আরও কিছু মামলা হয়। ২০২৪ সালের আগষ্টে হাসিনার পতনের পর মোল্লা ইউনুসের তত্বাবধায়ক সরকার তারেকের উপর থেকে সব মামলা প্রত্যাহার করে নেয় এবং তারেককে মুক্ত করে দেয়। এরপই তার পুনরায় দেশে ফেরার পথ প্রশস্ত হয়। সম্প্রতি বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরতে তারেকের দিকেই তাকিয়ে ছিল কর্মী সমর্থকরা। গত ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস উপলক্ষে ব্রিটেনে বিএনপি’র এক আলোচনা সভায় তারেক ঘোষণা করেছিলেন, তিনি ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ফিরছেন।
অনেকে বলেছেন, আওয়ামী লীগ হীন নির্বাচনে এই মুহূর্তে জামাত ও কট্টরপন্থী দল গুলিকে ঠেকাতে পারে একমাত্র বিএনপি-ই। নয়াদিল্লী ও এমনটা চাইছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। চলমান পরিস্থিতিতে ‘জামাত’ নতুনভাবে গড়ে উঠা ‘এনসিপি’ এর মতো কট্টরপন্থী ভারত বিরোধী দলগুলিকে পরাস্ত করে ‘বিএনপি’ ক্ষমতায় আসতে পারলে, ভারতের পক্ষেও কিছুটা স্বস্তিদায়ক হবে। এতে কোনও সন্দেহ নেই। অনেকটা ‘মন্দের ভালো’ যাকে বলে। তাছাড়া ভারত আগেও বিএনপির সরকারের সাথে কাজ করেছে। ফলে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ভারতের জন্য এতটা উদ্বেগজনক হবে না।
তাই হাসিনাহীন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখতে ভারতের এখন কৌশলী অবস্থান নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। সময় এবং অনুকূল পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করতেই হবে।তবে মোল্লা ইউনুসের দিন যে শেষ হচ্ছে, এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়।