January 7, 2026

আর্থিক নির্ভরতা সৃষ্টিতে,খালি জায়গা না রেখে সেখানে কৃষিকাজের পরামর্শ রতনের!!

 আর্থিক নির্ভরতা সৃষ্টিতে,খালি জায়গা না রেখে সেখানে কৃষিকাজের পরামর্শ রতনের!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-খালি জায়গা না রেখে কৃষিকাজে ব্যবহার করতে বললেন কৃষিমন্ত্রী। এবার পরিত্যক্ত জলাশয়গুলিকেও কাজে লাগিয়ে কীভাবে এর থেকে আয়ের উৎস সৃষ্টি করা যায় সেই পথ দেখালেন মোহনপুরের তারানগরে তারাসুন্দরী বাঁধ সংলগ্ন পরিত্যক্ত জলাশয়টিকে পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে। সোমবার ভূমিপুজোর মধ্য দিয়ে এই জলাশয়টির পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু হয়। এই এলাকায় ওয়াটার শেড ম্যানেজমেন্ট উৎসব ২০২৫-এর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্য কৃষি ও বিদ্যুৎ দপ্তরের মন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে বৃক্ষরোপণ যেরকম দরকার, এর সাথে জল সংরক্ষণেও গুরুত্ব দিতে হবে।নয়তো বিরাট সমস্যা দেখা দেবে।আগামী প্রজন্মের সুরক্ষার জন্য এখন থেকে এ রকম পরিত্যক্ত জলাশয়গুলিকে পুনর্জীবিত করে জল সংরক্ষণে গুরুত্ব দিতে বলেন। কৃষিমন্ত্রী বলেন, বিশেষজ্ঞরা বলছেন একদিন এই জলের জন্যই বিশ্বযুদ্ধ হতে পারে।
জল সংরক্ষণের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, যেসব রাজ্য এবং এলাকা চাষের ক্ষেত্রে বৃষ্টির জলের উপর নির্ভরশীল ধরে না রাখতে পারে কঠিন হয়ে পড়বে।অনুষ্ঠান মঞ্চে অন্য অতিথিদের সাথে কৃষক সুবল দেবনাথকে বসিয়ে মন্ত্রী বলেন, কৃষক হচ্ছেন অন্নদাতা ভগবান। তারা চাষ না করলে আমাদের লক্ষ লক্ষ টাকা রোজগার করেও বাবুয়ানা বন্ধ হয়ে যাবে। এর সাথে না খেয়ে মরতে হবে। তাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কৃষকদের সম্মান দিয়েছেন। এর আগে কোনো প্রধানমন্ত্রী এভাবে কৃষকদের গুরুত্ব দেননি। এমনকী কৃষকের সাথে অন্নদাতা ভগবান শব্দটি প্রধানমন্ত্রী উচ্চারণ করেননি।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন অনিতা দেবনাথ, ভাইস চেয়ারম্যান শংকর দেব, মোহনপুর পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপার্সন রাকেশ দেব, কৃষি দপ্তরের সিইও শরদিন্দু দাস, কাউন্সিলর কার্তিক আচার্য এবং প্রধান উমাচরণ ঋষিদাস সহ অন্যরা। এদিন মান্দাই এবং হেজামারার সাতশো কৃষকের মধ্যে নারিকেলের চারা মন্ত্রীর হাত দিয়ে তুলে দেওয়া হয়।
মোহনপুরকে একেবারে উন্নয়নের চাদরে বেঁধে নিতে একের পর এক কাজ করে যাচ্ছেন কৃষিমন্ত্রী। বছরের পর বছর দিনের পর দিন অবহেলিত এই তারাসুন্দরী বাঁধ সংলগ্ন জলাশয়টিকে ওয়াটার ফেড ম্যানেজমেন্টের আওতায় এনে আয়ের উৎস সৃষ্টির রূপরেখা তৈরি করলেন। এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে শুরু হয়েছে এ কাজ। রাজ্যের ১৮টি মহকুমায় মোট ৪৮টি এ রকম প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে এটি একটি। একটি হেজামারা পূর্ব নোয়াগাঁও ও মান্দাইয়ে রয়েছে। আগামী দিনে কাইলরি ছড়াকেও পুনর্জীবিত করে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তারাসুন্দরী ওয়াটার শেড ম্যানেজমেন্টের বিষয় সরকারের আগামী পরিকল্পনা নিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, পাশে থাকবে ইকো টুরিজ, ওপেন জিম, জনকল্যাণমূলক পরিকাঠামো এবং শিশুদের জন্য খেলার মাঠেরও চিন্তা করা হচ্ছে। সোমবার ভূমিপুজোর মধ্য দিয়ে শুরু এবং মঙ্গলবার থেকে সমাধান শুরু হবে। এক কথায় এই পরিত্যক্ত জলাশয় আগামী দিনে এলাকার আয়ের উৎস তৈরি হতে যাচ্ছে।রাজ্য সরকার বনায়ন সৃষ্টির সাথে জল সংরক্ষণের বিষয়টিও আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তাছাড়া কৃষি দপ্তর টেকসই কৃষি ব্যবস্থাস্বরূপ পোল্ট্রি, পিগারি এবং পামওয়েল চাষে সহযোগিতা করছে। কিছু বছরে ৪৮টি জায়গায় ১৮১টি চেক ড্রাম তৈরি করা হয়েছে। পুকুর করা হয়েছে ১০১৪টি, অমৃত সরোবর করা হয়েছে ৪৪টি, পুকুর সংস্কার ১৩৫টি এবং ৬৯৯৯ মিটার দৈর্ঘ ইরিগেশন চ্যানেল করা হয়েছে। বনায়ন রক্ষায় ১৪শ হেক্টরে বনায়ন করা হয়েছে। ৮৭৫৬ জনকে পোল্ট্রি, শূকর ছানা দেওয়া হয়েছে। মৎস্য চাষের আওতায় আনা হয়েছে ৬০৭ জন। সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে ঘরে ঘরে আয়ের উৎস সৃষ্টি করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *