আন্তর্জাতিক মানচিত্রে স্থান করে নিচ্ছে ত্রিপুরা, বিদেশি পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে জম্পুইয়ে!!
দৈনিক সংবাদ অনলাইন, ১৩মার্চ: সুইজারল্যান্ড,জাপান ও সিঙ্গাপুরের পর্যটকদের ভিড় জমেছে মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা জম্পুই পাহাড়ে। রাজ্যের পর্যটন ইতিহাসে এই প্রথম এত বিপুল সংখ্যক বিদেশি পর্যটক একসঙ্গে এসে জমায়েত হলেন জম্পুই পাহাড়ের ইডেন টুরিস্ট লজে। সুইজারল্যান্ড, জাপান ও সিঙ্গাপুর থেকে আসা পর্যটকদের উপস্থিতিতে শুক্রবার ইডেন টুরিস্ট লজ এলাকা যেন আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্রের রূপ নেয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর জম্পুই পাহাড় বহুদিন ধরেই ত্রিপুরার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই পাহাড়ি অঞ্চলের প্রতি বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ যে দ্রুত বাড়ছে, এর স্পষ্ট প্রমাণ মিলল শুক্রবারের দৃশ্যেই। সকাল থেকেই ইডেন টুরিস্ট লজ প্রাঙ্গণে দেখা যায় বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের ব্যস্ত উপস্থিতি।

জানা গেছে, গত কয়েক বছরে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে জম্পুই পাহাড়ের পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইডেন টুরিস্ট লজকে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। তাঁর উদ্যোগে পর্যটন দপ্তর বিভিন্ন পর্যটন মেলায় ও আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে জম্পুই পাহাড়ের সৌন্দর্যকে তুলে ধরেছে।
এরই ফলস্বরূপ বর্তমানে বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে এই পাহাড়ি অঞ্চলের প্রতি আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। শুক্রবার ইডেন টুরিস্ট লজে গিয়ে দেখা যায়, সুইজারল্যান্ড, জাপান ও সিঙ্গাপুর থেকে আগত পর্যটকদের একটি বড় দল সেখানে অবস্থান করছে। কেউ পাহাড়ের অপরূপ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করছেন, আবার কেউ প্রকৃতির নীরবতায় মুগ্ধ হয়ে সময় কাটাচ্ছেন। পর্যটকদের মধ্যে সুইজারল্যান্ড থেকে আসা পর্যটক ফ্রান্সিউস এবং ব্রিজটি ইসাবেলি জানান, আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে জম্পুই পাহাড়ের ইডেন টুরিস্ট লজের নাম দেখে তারা এখানে আসার পরিকল্পনা করেন।

তারা বলেন, পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং এখানকার শান্ত পরিবেশ তাদের গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে। জাপান ও সিঙ্গাপুর থেকেও আসা পর্যটকরা একইভাবে জম্পুই পাহাড়ের পরিবেশ ও আতিথেয়তায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, এত শান্ত ও নির্মল পাহাড়ি পরিবেশ খুব কম জায়গাতেই দেখা যায়।
বিদেশি পর্যটকদের এই আগমনে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায় নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে কাঞ্চনপুর মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যে ছোট-বড় হোটেল ও হোমস্টে গড়ে উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যটনের বিকাশ ঘটলে এলাকার অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি বহু বেকার যুবকের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।অনেক যুবক ইতিমধ্যেই হোমস্টে, গাইড পরিষেবা, পরিবহণ এবং খাদ্য ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।জম্পুই পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঠান্ডা আবহাওয়া এবং শান্ত পরিবেশ আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য যথেষ্ট। সঠিক পরিকল্পনা ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্য সরকারের পর্যটন দপ্তরের তরফ থেকেও পর্যটন বিকাশের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
রাস্তা, পর্যটন লজ, দর্শনীয় স্থান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে পর্যটকদের সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই জম্পুই পাহাড় উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।শুক্রবারের দৃশ্যই যেন সেই সম্ভাবনারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিল।পাহাড়ের বুকে দাঁড়িয়ে ইডেন টুরিস্ট লজে যখন বিদেশি পর্যটকদের কোলাহল শোনা গেল, তখন অনেকেই মনে করলেন – ত্রিপুরার পর্যটন মানচিত্রে হয়তো এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়ে গেল।
