শনিবার | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

অভাবের তাড়নায় সন্তান বিক্রি করে আত্মঘাতী হলেন পিতা

 অভাবের তাড়নায় সন্তান বিক্রি করে আত্মঘাতী হলেন পিতা

দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ১৩ ফেব্রুয়ারী: অভাবের তাড়নায় শিশু বিক্রি করে আত্মহত্যা পিতার। ঘটনা যুবরাজনগর বিধানসভার চুপিরবন্দ লালছড়া এলাকায়। ঘটনা জানাজানি হতেই শুক্রবার দিনভর গোটা উত্তর জেলায় ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য। এদিকে, ঘটনায় মুখ খুলতে নারাজ ধর্মনগর আরক্ষা প্রশাসন। প্রসঙ্গত, যুবরাজনগর বিধানসভার চুপিরবন্দ লালছড়া এলাকার তিন নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রবীন্দ্র দাস (পঁয়তাল্লিশ) পেশায় দিনমজুর। দুই সন্তান স্ত্রী ও বৃদ্ধ মাকে নিয়েই তার পরিবার। মায়ের বয়স প্রায় ৯৬ বছর। গোটা পরিবারের একমাত্র উপার্যনকারী ব্যক্তি ছিলেন রবীন্দ্র দাস। তার সিমিত আয়ের উপর নির্ভর করে খুব কষ্টেই চলত সংসার। এরই মধ্যে শুক্রবার সকালে রবীন্দ্র দাসের স্ত্রী বাড়ির ধারে একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় স্বামীর মৃতদেহ দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি জানানো হয় ধর্মনগর থানায়। দীর্ঘ বহু সময় পর ঘটনাস্থলে যান পুলিশ। শুরু করেন ঘটনার তদন্ত। এদিকে, মৃতের স্ত্রীর সাথে কথা বললে তিনি প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে জানান, গত সোমবার আসামের মাকুন্দা মিশনারী হাসপাতালে তার পরিবারের এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। জন্মের পরই সন্তানটিকে শিলচরের জনৈক ব্যক্তির নিকট বিক্রি করে দেন তার স্বামী রবীন্দ্র দাস। বিষয়টি স্ত্রী জানতে পারলে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে শুরু হয় বিবাদ। সন্তানটিকে বিক্রি করা হয়েছে বলে জানালেও টাকার পরিমাণ তিনি বলতে পারেননি। পাশাপাশি যে ব্যক্তির কাছে সন্তান বিক্রি করা হয়েছে তাকেও তিনি চিনেন না বলে জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রবীন্দ্র দাস শিলচর থেকে ফিরে আসেন বলে জানান তার স্ত্রী। এরপর নিজেদের মধ্যে কিছুটা বাকবিতন্ডার পর রাত তিনটা নাগাদ রবীন্দ্র দাস ঘর থেকে বেরিয়ে আর ফিরে আসেননি। সকাল হতেই শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। অবশেষে বাড়ির ধারে একটি গাছে স্বামীর দেহ ঝুলে থাকতে দেখেন তিনি।

কিন্তু পুলিশ গোটা ঘটনার সবকিছু জেনেও মুখ খুলতে নারাজ। শুক্রবার সকালে এ বিষয়ে পুলিশের কাছে জানতে চাইলে পুলিশ রবীন্দ্র দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যুর কথা জানান। কিন্তু শিশু বিক্রির কথাটি জানেন না বলেই দায় সারেন। তা শুনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দেখা দেয় সন্দেহ। কেননা সদ্যোজাত সন্তানের মা অর্থাৎ মৃতের স্ত্রী শিশু বিক্রির ঘটনাটি সরাসরি জানালেও পুলিশ বিষয়টি জানেন না বলে শিশু বিক্রির মতো গুরুতর অপরাধকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *