কলকাতা, ১৩ মে- দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করছে রাজ্য সরকার, এদিন হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু তাই নয়, রাজ্যে যেসব বেআইনি কারখানা রয়েছে সেগুলি দ্রুত ভেঙে দেওয়া হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার তিলজলায় একটি কারখানায় ভয়াবহ আগুন লাগে। দু’জন প্রাণ হারান। আর সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে এদিন তড়িঘড়ি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে এমন কথা জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
বুধবার বিধানসভার প্রথমার্ধের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পরেই সোজা নবান্নে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি জানান, যেসব কারখানার বিল্ডিং প্ল্যান সেই সেই নির্মাণগুলি ভেঙে ফেলা হবে। মঙ্গলবার তিলজলার অগ্নিকান্ডের পরে মালিক সহ দু’জজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ওই কারখানাটি অবৈধ। বিদ্যুৎ সংস্থাকে স্থায়ী ভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, জলের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করতে বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সিইএসসি-কে বলেছি, এমন অবৈধ কারখানা যত আছে, অবিলম্বে অভ্যন্তরীণ অডিট করে সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। এক দিনের মধ্যে অবৈধ কাঠামো ভেঙে দিতে হবে।’
মুখ্যমন্ত্রী আজ মনে করিয়ে দেন, নির্বাচনী প্রচার পর্ব থেকেই তার দল দুর্নীতিতে ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতির আশ্বাস দিয়ে এসেছে। ক্ষমতায় আসার পর তার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শুভেন্দু অভিযোগ করেন, কিছু আমলা ও আধিকারিকদের বাঁচাতে আগের তৃণমূল সরকার সিবিআইয়ের চারটি মামলা চার বছর ধরে আটকে রেখেছিল। শুভেন্দু বলেন, ‘আমাদের এই সরকার অনেক প্রত্যাশা জাগিয়ে এসেছে। দুর্নীতির ক্ষেত্রে আমরা ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি নিচ্ছি। প্রচারের সময়ও বার বার তা বলেছিলাম। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কথা আমাদের দলের ইস্তাহারেও ছিল। আগামী দিনে সে বিষয়ে আরও পদক্ষেপ দেখতে পাবেন রাজ্যের মানুষ। কাজ আমরা শুরু করে দিয়েছি।’
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘সিবিআই-এর চারটি মামলা গত চার বছর ধরে রাজ্য সরকার আটকে রেখেছিল। যে সমস্ত আধিকারিকেরা দুর্নীতিগ্রস্ত, সিবিআই বা আদালত নিযুক্ত যে কোনও তদন্তকারী সংস্থাকে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য বা তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়ার জন্য আইন অনুযায়ী রাজ্য সরকারের অনুমতি নিতে হয়। দুর্নীতিগ্রস্ত আমলা ও আধিকারিকদের বাঁচানোর জন্য পূর্বতন সরকার এই অনুমতি আটকে রেখেছিল। তিনটি দফতরের দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন আমরা সিবিআই-কে দিয়ে দিলাম। ছাড়়পত্রের কপি সিবিআই পেয়ে গিয়েছে।’
আলুচাষীদেরও এদিন বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আলুচাষীদের কোনওভাবে বিরক্ত করা যাবে না। আগের সরকার চাষীদের নানাভাবে অসুবিধায় ফেলত বলেও অভিযোগ করেন না। বিধানসভায় আজ শপথ নেওয়ার পরে সাংবাদিকদের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি দু’টি আসনে এবার জয়ী হয়েছেন, নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর। এবার নিয়ম মেনে তিনি নন্দীগ্রাম আসনটি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নন্দীগ্রামের সঙ্গে তিনি সবসময় আছেন। বিধায়ক না থাকার সময় থেকেই দীর্ঘ সময় ধরে তিনি নন্দীগ্রামের উন্নয়নের সঙ্গে তিনি জড়িয়ে। তার জায়গায় অন্য প্রতিনিধি বিজেপির তরফে প্রার্থী হবেন। সেই প্রতিনিধি জিতে এসে কাজ করবেন। তবে নন্দীগ্রামের দিকে তার নজর থাকবে। তার হয়েই প্রতিনিধি কাজ করবেন সেখানে। শুভেন্দু বলেন, ‘নন্দীগ্রাম নিয়ে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, পালন করব। সংবিধানের নিয়ম অনুসারে নন্দীগ্রাম ছাড়লাম।’