মায়াপুর, নদিয়া, ২৮ মে–মঙ্গলবার নদিয়ার কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠক করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর বৃহস্পতিবার সেই নদিয়াতেই গেলেন, তবে এবার তিনি গেলেন মায়াপুর ইস্কনে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে এই প্রথম তিনি মায়াপুরের ইস্কনে গেলেন।
শুভেন্দু জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর ইসকনে আসার ইচ্ছা ছিল। সেই মতো বৃহস্পতিবার তিনি মায়াপুরের ইসকন মন্দিরে এসে প্রথমে গোশালায় পুজো করেন। ইসকনের সন্ন্যাসীদের উপস্থিতিতে তিনি গো-সেবা করেন। জল দিয়ে গোমাতার পা ধুয়ে দেন তিনি। গোমাতাকে খাবারও খাওয়ান। এরপর গো-সেবার পর চন্দ্রোদয় মন্দিরে আসেন তিনি। সেখানে রাধামাধব ও প্রভুপাদর দর্শন করে পুজো সারেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে রাধাকৃষ্ণের মন্দিরে পুজো ও আরতি করেন। পুজো ও আরতির পর সাষ্টাঙ্গে প্রণামও করেন শুভেন্দু। মন্দিরেই ভক্তদের মাঝে মিশে গিয়ে তাদের জড়িয়ে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। করেন শুভেচ্ছা বিনিময়ও। এরপর ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের মন্দিরেও পুজো করেন তিনি।
ইস্কন কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে বৃহস্পতিবার সকালে মায়াপুরে পৌঁছোন মুখ্যমন্ত্রী। হাওড়ার ডুমুরজলা থেকে হেলিকপ্টারে করে তিনি রওনা দেন মায়াপুরের উদ্দেশে। সকাল ১১টা নাগাদ তার হেলিকপ্টার নামে মায়াপুরের হেলিপ্যাডে। মুখ্যমন্ত্রীর ইস্কন সফর ঘিরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মায়াপুর মন্দির চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মতো। মুখ্যমন্ত্রী ইস্কনে পৌঁছোনোর আগে থেকেই সেখানে দৃশ্যত উৎসবের মেজাজ দেখা যায়। কীর্তনের তালে তালে শুভেন্দুকে স্বাগত জানানো হয় ইস্কনে।
পুজোর পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর কালীঘাট, বেলুড় মঠ, জৈন মন্দির, লক্ষ্মী নারায়রণ মন্দিরে গিয়েছি। ইসকনে এসে রাধামাধবের দর্শন, গোমাতার সেবা, চৈতন্যদেবকে স্মরণ, কীর্তন-ভজন শোনার ইচ্ছা ছিল। গীতার বাণীকে গ্রহণ করে আগামী দিনে মানুষের কল্যাণে যাতে আমরা কাজ করতে পারি, পশ্চিমবঙ্গে যাতে আগের মতো হৃত গৌরব ফিরতে পারে সেই প্রার্থণা নিয়ে এসেছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার অন্তর এখানে আছে। আমি এখানে হৃদয়ের সঙ্গে এসেছিল। আমি একজন সনাতনী, ইসকনের ভক্ত। ইসকনের সন্ন্যাসীরা নিঃস্বার্থভাবে গীতার প্রসার ও প্রচার করেন। অপমান, লাঞ্ছনার পরেও তারা থেমে থাকেন না।’ ইস্কন মুখপাত্র রসিক গৌরাঙ্গ দাস বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী এই প্রথম বারের মতো ইস্কনে এসেছেন। উনি গোপীজন গো-সেবা ও যজ্ঞে অংশগ্রহণ করেছেন। এরপর মতবিনিময়ের একটি অনুষ্ঠান আছে। ইস্কনের ব্যাপারে উনি যথেষ্ট আগ্রহী এবং উৎসাহী।’