কলকাতা, ১৪ সেপ্টেম্বর- ফের কী শিবির বদল করতে চলেছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদেরা, কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বাসুনিয়ার মন্তব্যে সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে। সোমবার কোচবিহারের সাংসদ জানিয়েছেন, তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইতে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের মধ্যে ১৭ জনই পুজোর আগে বা পরে সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। তবে তিন সংখ্যালঘু সাংসদ বিজেপিতে যোগদান করবেন না। তারা এনসিপিআইতে থেকে এনডিএ-কে সমর্থন করবেন।
এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া জানিয়েছেন, দলীয় বিধিনিষেধ ও দলত্যাগবিরোধী আইন এড়াতেই বিজেপি তাঁদের এনসিপিআই-তে নিয়ে গেছিল। তার বক্তব্য, ‘এখন ২০ জন সদস্যের মধ্যে ১৪ জন গেলেই দুই-তৃতীয়াংশ হয়, আর আমরা ১৭ জন একসঙ্গে যাচ্ছি। ফলে কোনও অবস্থাতেই আমাদের সদস্যপদ বাতিল হবে না বা আমরা দলবিরোধী আইনের আওতায় পড়ব না।’ বাকি তিন সংখ্যালঘু সাংসদ সম্পর্কে এই সাংসদ বলেন, ‘ওঁদের সংসদীয় এলাকা সংখ্যালঘু প্রধান হওয়ায় সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কিছু সমস্যা রয়েছে। তাই ওই ৩ জন সাংসদ সরাসরি দলবদল করবেন না, তবে তারা এনডিএ-র অংশ হিসেবেই কাজ করবেন এবং তাদের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।’
পুজোর মুখে এই দলবদলের দাবি সত্যি হলে রাজ্যের পাশাপাশি কেন্দ্র তথা জাতীয় রাজনীতিতে বড়সড় রদবদল ঘটতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল। যদিও রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার এই বিষয়টি অস্বীকারই করেছেন। তার কথায়, বিজেপিতে এমন কিছুই ঘটে না, বা এমন কিছু ঘটেছে কিনা জানা নেই। এনসিপিআই সাংসদ যে মন্তব্য করেছেন তার দায় তিনি নিজেই নেবেন। এর দায় বিজেপির নয়। তিন সংখ্যালঘু সাংসদের অন্যতম মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের বলেন, ‘আমি জগদীশ বসুনিয়াকে আমার ভবিষ্যৎ কর্মসূচি কী হবে বা না হবে, তার দায়িত্ব দিইনি। জগদীশ বসুনিয়া যা বলেছেন, এটা তাঁর ব্যক্তিগত মত। তার সঙ্গে আমরা সহমত নই। আমরা বিজেপিতে যাব না। এনডিএ-তেও যাব না। এটা পরিষ্কার। আমরা তিন সাংসদ বার বার বলেছি, আমরা বিজেপিতে যাব না, এনডিএ-তে যাব না।’