কলকাতা, ১২ সেপ্টেম্বর– পুজোর সময় আমিষ-নিরামিষ খাবার নিয়ে চলছে তুমুল চর্চা। তার মাঝে শনিবার আরও একবার বাঙালিদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার সোজাসাপ্টা বক্তব্য, “বাঙালি নিরামিষ খেয়ে পুষ্পাঞ্জলি, মাছ দিয়ে প্রসাদ দিতে জানে।”
সম্প্রতি বাগেশ্বর বাবার একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়। এদিন গণেশ পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে স্বঘোষিত ধর্মগুরু বাগেশ্বর বাবার কথা বলেন শুভেন্দু। ভেন্দু বলেন, “কিছুদিন আগে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী বাগেশ্বরধাম মহারাজ লিলুয়াতে এসেছিলেন। লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়েছিল।” আমিষ বিতর্ক নিয়ে তিনি আরও বলেন, “মাছ দিয়ে মাঠে প্রসাদ দিতে হয় সেটাও বাঙালিরা জানে আবার কোন দিন নিরামিষ গ্রহণ করে পুষ্পাঞ্জলি দিতে হয়। সেটাও বাঙালিরা জানে।” বাগেশ্বর বাবাকে সমর্থন করেন না বলেই সাফ জানান বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, লকেট চট্টোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পালও।
শনিবার সকালে কেষ্টপুরে গণেশ পুজো উদ্বোধনের পর শুভেন্দু বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সবসময় ভাষা, জাত, উৎসবের নামে বাঙালি, সনাতনীদের বিভাজিত করার চেষ্টা করেছেন। কেউ বা কারা ভাবত গণেশ পুজো মহারাষ্ট্রের। মোটেও না। গণপতি বাবা গোটা দেশের সনাতনীদের। তারা চেষ্টা করত মা দুর্গা শুধু কলকাতার। না গোটা দেশের সনাতনীদের। কেউ বা কারা পরিবেশ তৈরি করে রেখেছিলেন ছটপুজো বিহারীদের। মোটেও না আমাদের বাড়ির মা-বোনেরাও সূর্যপ্রণাম করেন। ব্রতপালন করেন। প্রাচীর তৈরি করে রেখেছিল তুমি বাঙালি, গুজরাটি। আমরা ছাব্বিশে সেই প্রাচীর ভেঙে দিয়েছি। আমরা সকলে সনাতনী, হিন্দুস্তানি।” বামেদের তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “৩৪ বছর ধরে যারা পুজো লিখতে দিবে না। পঞ্জিকা, শাস্ত্র, পুরোহিত, মন্ত্রোচ্চারণ, সাত্ত্বিকতা ভুলিয়ে দিয়েছিল লাল রাজত্বে তারা দুর্গাপুজো লিখবে না। মহালয়া শুনবে না। তারা মণ্ডপে প্রবেশ করে মাকে আরতি করবে না। তারা প্যান্ডেল থেকে দূরে একটা লাল শালু লাগিয়ে বসত। দেখবেন আপনারা আমার কথা পরীক্ষা করবেন। সেখানে স্বামী বিবেকানন্দ, লোকেশ্বরানন্দজী, ভারত সেবাশ্রমের লেখা বই পাবেন না। সেখানে বাংলা তৈরির তত্ত্বের কোনও বই পাবেন না। দ্বিজাতি তত্ত্বে ভারত ভাগে বই পাবেন না। কার্ল মার্কস, লেনিনের বই পাবেন। হনুমান চালিশা পাবেন না।’