কলকাতা, ২২ আগস্ট– যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনায় তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি। ঘটনায় ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে দায়ের হয়েছে এফআইআর। এই পরিস্থিতিতে এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ভবানীপুরে ‘অন্নপূর্ণা’র এক অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ, বিরোধীদের ভূমিকা এবং সংবাদমাধ্যমের একাংশের অবস্থান নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি। স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, যাদবপুরের ভেতরে ও বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করাই তার সরকারের মূল লক্ষ্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক অচলাবস্থা নিয়ে অভিযোগের সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যাদবপুরে জানেন বন্দে মাতরম্ বলতে দেওয়া হয় না। জাতীয় পতাকা ওঠে না। শিক্ষা দফতর বা সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে বাধা দেওয়া হয়।’ ক্যাম্পাসের ভেতরে এক শ্রেণির ‘টুকড়ে-টুকড়ে গ্যাং’ ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি জানান, যারা ২৬ জানুয়ারি বা ১৫ অগস্ট পালন করে না, সংবাদমাধ্যমের একাংশ তাদের পক্ষ নিয়ে যতই ‘আহা-উহু’ করুক, সরকার নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরবে না। শুভেন্দুর ঘোষণা, ‘ই সরকার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন পূরণের উদ্দেশ্যে এসেছে। রাষ্ট্রবাদ, সনাতন সংস্কৃতি, বন্দে মাতরম্, তেরঙ্গা, রবীন্দ্রনাথ-নেতাজি-বঙ্কিমচন্দ্র কিংবা কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর ও তারকেশ্বর ধামের আস্থার সঙ্গে কোনও সমঝোতা করা হবে না।’
ভবানীপুরের এদিনের কর্মসূচি থেকে তৃণমূল ও বামেদের আজ একযোগে আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার কথায়, ধমক-চমক, সোশ্যাল মিডিয়ায় রিল বানিয়ে কিংবা রাস্তায় জনা কুড়ি লোক নামিয়ে ‘উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে’ চাপানোর চেষ্টা করে লাভ নেই। তৃণমূলকে ‘খণ্ড-বিখণ্ড’ দলে বলে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পিসির ঘরে তালা ঝুলছে, ভাইপো বিদেশে, আর বাকি নেতারা দিশাহীন হয়ে উত্তর-দক্ষিণে ঘুরছেন। আপনাদের এসব বুদ্ধি চলবে না।’ আবার একই সঙ্গে সিপিএমের ‘লাল বাবুদের’ উদ্দেশে সুর চড়িয়ে শুভেন্দুর মন্তব্য, জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া দল দিল্লি থেকে ডরিনা ক্রসিং হয়ে যাদবপুরের অন্দরে ঢুকে যতই ‘মরা কান্না’ কাঁদুক না কেন, রাজনৈতিক জল আর বেশি দূর গড়াবে না।