‘ভ্যানিশ কুমার মাস্ট গো’, শ্রীরামপুরের সভা থেকে তীব্র আক্রমণে মমতা

শ্রীরামপুর, ২৬ সেপ্টেম্বর- শনিবার হুগলির শ্রীরামপুরের সবা থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেফতারি চেয়ে গোটা দেশজুড়ে বিরোধী দলগুলির সরব। একইভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এবার হুগলির সভা থেকে তার হুঙ্কার, ‘ভ্যানিশ কুমারকে যেমন ধরেছি, তেমন অন্যায়কারীদের ধরব। সামনে ভ্যানিশ কুমার, পেছনে নারদ নারদ। ভ্যানিশ কুমার মাস্ট গো। যতদিন না যাবে, আমাদের আন্দোলন চলবে।’

            শুরু থেকেই এসআইআরের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন মমতা। সেই থেকেই তার নিশানায় ছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। পরবর্তীকালে  কমিশনের তথ্য সংক্রান্ত দায়িত্ব সামলানো অফিসার সীমা খান্নার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু সেসময় তাদের বিরোধিতা গুরুত্ব পায়নি। রাজ্যের প্রায় ৯২ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছিল এসআইআরে। সম্প্রতি এই এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসায় সেটাই বিরোধীদের ‘তুরুপের তাস’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

            শ্রীরামপুরের মমতার সভাকে কেন্দ্র করে বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছিল। বহু টালবাহানার পর কলকাতা হাই কোর্টের অনুমতিতে শর্তসাপেক্ষে শ্রীরামপুরের কোর্ট ময়দানে জনসভা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেস ভাগ হওয়ার পর, ঘাসফুল প্রতীক হারানোর পর এটাই মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূলের প্রথম জনসভা। শনিবার সেই সভা থেকেই একের পর এক ইস্যুতে কেন্দ্রের শাসকদল ও নির্বাচন কমিশনকে তোপ দাগলেন মমতা। আর সেই সভা থেকেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বাংলা দখল করার উদ্দেশ্যেই এসআইআর করা হয়েছিল।

            হুঁশিয়ারির সুরে আজ মমতা বলেন, ‘৯৩ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দিয়েছে। আমরাই প্রথম বলেছিলাম, ওই অফিসার সীমা খান্নার ভূমিকা সন্দেহজনক। ফর্ম ৬ বস্তায় করে বিজেপির সিল লাগিয়ে জমা দিচ্ছিল বিজেপির লোকজন। সব তথ্য রেখে দিয়েছি। ভ্যানিশ কুমার নামটা আমি প্রথম বলেছিলাম। কারণ কী জানেন? ধরে ধরে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে দিচ্ছিল। ওরা বাংলা দখল করেছে, আমরা দিল্লি দখল করব।’ গোটা দেশজুড়ে বিরোধী ঐক্যে শান দিতে আগামী বুধবার দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকেও হাজির থাকবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা হয়েছে মমতা। আবার সিপিএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি।

Sumit Chakraborty: