কলকাতা, ১৪ মে– বাংলার সব সরকারি বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হওয়ার আগে এবার বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বন্দেমাতরম গানটি গাইতে হবে, এই মর্মে এবার নির্দেশিকা জারি করতে চলেছে রাজ্য সরকার। আগামী সোমবার থেকে এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। সরাসরি তা ঘোষণাও করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ইতিমধ্যেই জেলার বিভিন্ন প্রাথমিক স্কুল শিক্ষকদের নিয়ে তৈরি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা এই মর্মে একটি মেসেজ ফরোওয়ার্ড করেছেন। সেখানেই স্কুল শুরুর আগে বন্দে মাতরম গান বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। এরপরেই জেলার বিভিন্ন স্কুলে এই বিষয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
বৃহস্পতিবার বিধানসভা চত্বরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি নবান্নে গিয়ে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করবেন। শুভেন্দু বলেন, ‘আমি নবান্নে যাব। সব বিদ্যালয়ে সোমবার থেকে বন্দেমাতরম গেয়ে বিদ্যালয় (ক্লাস) শুরু করতে হবে। সেই নোটিসটা জারি করব।’ রাজ্যের বিদ্যালয়গুলিতে বর্তমানে গরমের ছুটি চলছে। যদিও পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ছুটি বাড়ানো হয়েছে। গরমের ছুটি বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩১ মে পর্যন্ত। এরমধ্যেই একাধিক জেলায় ডিআই অর্থাৎ স্কুল পরিদর্শক এবং অন্যান্য আধিকারিকদের মোবাইল এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বন্দে মাতরম গান নিয়ে একটি মেসেজ পাঠানো হয়। বস্তুত, জাতীয় গান নিয়ে এই সরকারি নির্দেশ কার্যকর হবে রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলির ক্ষেত্রেই। পাশাপাশি বেসরকারি স্কুলগুলিকেও এই অনুশীলন শুরুর অনুরোধ করা হবে বলে জানা যাচ্ছে।
শিক্ষাদপ্তরের এহেন ঘোষণায় খুশি শিক্ষকদের সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ (এবিআরএসএম)। সংগঠনের তরফে অসীম দাস বলেন, ‘সাম্প্রদায়িকতার নামে আমাদের এই রাষ্ট্রগীত এত দিন স্কুলে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। এই গীত আমাদের সংস্কৃতির ধারক এহং বাহক। আমরা হিন্দু রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। এই অবস্থায় স্কুলে স্কুলে এই গীত চালু করা অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। আমরা এই কাজের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘বিকৃত ইতিহাসকে বদলের এটাই সঠিক সময়।’ পশ্চিমবঙ্গ দিবস ইস্যুতেও আজ শমীক বলেন, ‘১৯৪৭ সালের ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গের জন্ম। এটাই আসল। যারা এটা বিকৃত করতে চাইছিলেন, তাদেরই আজ মানুষ বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে।’