সই-কান্ড নিয়ে স্পিকারের কাছে অভিযোগ, বহিষ্কৃত তৃণমূলের দুই বিধায়ক

কলকাতা, ১ জুন- সই জাল কান্ড ফাঁস নিয়ে এবার প্রবল অস্বস্তি তৃণমূলের অন্দরে। আর সেই অস্বস্তি ঢাকতে এবার দলের দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করল তৃণমূল। একজন উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আরেকজন এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা। জোড়াফুল শিবিরের তরফে জানানো হয়েছে, দলবিরোধী কাজের জন্য এই দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার এই সই জাল বিতর্ক নিয়ে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে তাৎপর্যপূর্ণভাবে তৃণমূলের দুই বিধায়কের নাম নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

            মুখ্যমন্ত্রী জানান, সই জাল নিয়ে তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ জানান। আর সেই লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই বিধানসভার সচিবালয় হেয়ার স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। শুভেন্দু জানান, তৃণমূলের তরফে যে রেজলিউশন কপি জমা পড়ে, সেখানে বিধায়কদের নাম ‘ব্লক লেটারে’ সই করা ছিল। আর এখানেই দানা বাঁধে রহস্য। তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা স্পিকারের কাছে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাদের দাবি, বিরোধী দলনেতা বাছার জন্য গত ৬ মে-র যে রেজলিউশন দেখানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়া এবং ডুপ্লিকেট। ১৪ জন বিধায়কের সই ব্লক লেটারে জাল করা হয়েছে। কটাক্ষের সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তৃণমূলের চুরির অভ্যাস এখনও কাটেনি। সংবাদ মাধ্যমের প্রচারে এটাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মনে হতে পারে, কিন্তু আসল সত্যিটা হল, দলটাই এবার উঠে গেছে।’

            মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, পুলিশমন্ত্রী হিসাবে তার কাছে বিষয়টি আসার পরেই তিনি সিআইডি-কে তদন্তে যুক্ত করার নির্দেশ দেন। সিআইডি ইতিমধ্যেই ১৩ জন বিধায়কের সই ভেরিফাই করেছে। যার মধ্যে বাহারুল ইসলাম-সহ তিন তৃণমূল বিধায়ক, স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রেজলিউশন কপিতে থাকা সই তাঁদের নয়। বিধায়ক বাহারুল ইসলাম সিআইডি-কে এও জানিয়েছেন যে, যেদিন ওই তথাকথিত বৈঠক হয়েছিল, সেদিন তিনি ভাঙড়ে নিজের বাড়িতে ছিলেন। তবে আর এক বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে এখনও তদন্তকারীদের দেখা হয়নি বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারীর এই সাংবাদিক বৈঠক শেষ হওয়ার ১৫ মিনিট পরেই দলের দুই বিধায়ককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে তৃণমূল।

            বহিষ্কারের পর বিধায়ক সন্দীপন সাহা বলেন, ‘যারা অনৈতিক কাজ করে, দল তাদের সমর্থন করে। আর যারা নৈতিক কাজ করে, তাদের বহিষ্কার করে। আমরা তো জানতামই না, একটা হাজিরা খাতার সইকে প্রস্তাবের সই বলে চালানো হবে।’ আর ঋতব্রত বলেন, বেড়ালের গলায় ঘণ্টাটা আমি আর সন্দীপন বেঁধে দিলাম। স্পিকারের কাছে আমরা দুজন অভিযোগ জানিয়েছিলাম। সই-কাণ্ড নিয়ে তদন্তে নেমে সিআইডি চার জনের বাড়িতে গিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চৌরঙ্গীর নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বেলেঘাটার কুণাল ঘোষ, ডোমজুড়ের তাপস মাইতি এবং ক্যানিং পূর্বের বাহারুল ইসলাম।

            তৃণমূলের দুই বিধায়ককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পরেই সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করেছেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। যেখানে নাম না করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘এবার বিধানসভা নির্বাচনে দলনেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। দলের প্রতীকেই আমি এবং আমরা বিধায়ক। ফল প্রকাশের এক মাসও হয়নি। তার আগেই দলে বিদ্রোহ, বিশ্বাসঘাতকতা?? দলের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ?? তাহলে আমরা দাঁড়িয়েছিলাম কেন?? আজ দিদি মুখ্যমন্ত্রী হলে তো অনেকে মন্ত্রী হওয়ার লবি করত। এখন হঠাৎ নানা কারণ দেখিয়ে দূরত্ব?? এটা কাপুরুষতা।’ এসবের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, তৃণমূলের বিধায়ক দলে কী তবে এবার ভাঙণ ধরতে চলেছে?  নিজের পোস্টে কুণাল লিখেছেন, ‘যদি তৃণমূলের কাউকে কাউকে গাজর দেখিয়ে ভাঙানোর চেষ্টা বিজেপি করে, তাতে আমি বিজেপির দোষ দেখি না। ওরা আগেও ‘যোগদান মেলা’ করেছে। আমরাও ওদের লোককে নিয়েছি। ওরা আজ ক্ষমতায়। ওদের সমালোচনার আগে নিজের ঘরের দিকে তাকাবো।’

Sumit Chakraborty: