চোরবাগান সর্বজনীনের ঘটনায় গ্রেফতার মোট ৯ জন

কলকাতা, ২৩ অক্টোবর- চোরবাগান সর্বজনীনের পদপিষ্টের ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। এই নিয়ে গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে হলো ৯ জন। যাকে শুক্রবার গ্রেফতার করা হয় তিনিও ঘটনার দিনে ঘোষকের দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। ওই ব্যক্তির নাম বাবু মজুমদার ওরফে কুশল। তাকে এদিন লালবাজারে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকরা।

            কিন্তু কেন, কোন পরিস্থিতিতে মণ্ডপ ভেঙে যাওয়ার কথা ঘোষণা করলেন ধৃত কুশল মজুমদাররা। সোশাল মিডিয়ায় একটি প্রোফাইলে হাতে লেখা কাগজ পোস্ট করে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কুশল গ্রেপ্তার হয়েছেন। কী করে পোস্ট করতে পারেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চোরবাগান কাণ্ডে দুই ঘোষককে গ্রেপ্তার করেছে লালবাজারের তৈরি তদন্তকারী দল। এক সদস্য তথা সেই দিনের ঘোষক সেন্টুকে নদিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারপরই গ্রেপ্তার হয় আরেক ঘোষক কুশল মজুমদার। শুক্রবার ফেসবুক পোস্ট করে জানিয়েছেন কেন তিনি মণ্ডপ ভেঙে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। বৃষ্টি আসার পর কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, পুলিশ কর্তারা কোথায় ছিলেন, পোস্টে বিষয়টি বর্ণনা করেছেন তিনি।

            সোশ্যাল মিডিয়ার ওই পোস্টে কুশল জানিয়েছেন, ২০ বছর ধরে চোরবাগানের সদস্য। অভিশপ্ত রাতে তিনি বাড়ি থেকে মণ্ডপে আসেন সন্ধ্যা নাগাদ। সেই সময় ক্লাবে ছিলেন গিরিশ পার্ক থানার বড় বাবু ও ছোট বাবু। কিছুক্ষণ পরে চা আনার জন্য কুশল ও সহ-সভাপতি কুশল দুবে বাইরে বেরন। ফেরার পথে বৃষ্টি নামে। হুড়োহুড়ি শুরু করেন দর্শনার্থীরা। সেই সময় কোষাধ্যক্ষ সেন্টু ঘোষণা করছিলেন, হুড়োহুড়ি করবেন না, বিপদ হতে পারে। কুশলের দাবি, তারা ক্লাবের ভিতরে চলে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই চিৎকার শুরু হয়। তা শুনে ক্লাব থেকে বেরিয়ে যান উপস্থিত পুলিশকর্তারা। তার কয়েক মুহূর্তের পর সম্পাদকের পুত্র কবীর এসে তাদের জানায় মণ্ডপের পিছনের অংশ ভেঙে গিয়েছে। ঠিক সেই সময় এক পুলিশকর্মী মাইকিং করার কথা বলেন। তিনি মাইকিং করেন। কুশল পোস্টে জানিয়েছেন, যেহেতু সম্পাদকের ছেলে জানিয়েছিল, পেছন দিকের অংশ ভেঙে গিয়েছে, তাই সেই কথা মাথায় রেখে দর্শনার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন আপনারা মণ্ডপে প্রবেশ করবেন না। মূল মণ্ডপের অবস্থা খারাপ। একসঙ্গে বহু দর্শনার্থীরা প্রবেশ করলে মণ্ডপের ভিত আলগা হয়ে ভেঙে যেতে পারে। কুশলের দাবি, এতে তার কোনও খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না।             

Sumit Chakraborty: