কলকাতা, ১৮ এপ্রিল – ছাব্বিশের নির্বাচনের লড়াই তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির নয়, বরং লড়াইটা বাংলার আমজনতার সঙ্গে তৃণমূলের, শনিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে মিট দ্য প্রেসের অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দাবি করলেন, বাংলায় এবার পরিবর্তন আসছেই। পরিবর্তন আনার জন্য প্রস্তুত বাংলার আমজনতা।
কলকাতা প্রেস ক্লাবের এই সাংবাদিক সম্মেলনে শমীক ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, ২০১১ সালে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েই ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু গত ১৫ বছরে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ না হয়ে উল্টে গণতান্ত্রিক কাঠামোই ভেঙে পড়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসন ও শাসকদলের মধ্যে পার্থক্য প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি সম্মান নষ্ট হয়েছে। বিচারব্যবস্থা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ করা হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।’ বাংলার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজ্যের ঋণের পরিমাণ বিপুলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার ক্রমাগত কমছে। শিল্পায়নের অভাবে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি এবং সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের মতো ঘটনার ফলে শিল্প মহলে নেতিবাচক বার্তা গেছে।’
শমীকবাবু দাবি করেন, গত ১৫ বছরে প্রায় ৭৯ হাজার কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং হাজারেরও বেশি কোম্পানি লিকুইডেশনে রয়েছে। পাশাপাশি বহু কোম্পানি তাদের হেডকোয়ার্টার অন্য রাজ্যে সরিয়ে নিয়েছে, যার ফলে রাজ্যে মেধা, পুঁজি ও শ্রম—তিন ক্ষেত্রেই ব্যাপক বহির্গমন ঘটছে। নিরাপত্তা ও সামাজিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি ‘র্যাডিকালাইজেশন’ ও জনবিন্যাস পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এটিকে রাজ্যের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে “আইনশৃঙ্খলার সম্পূর্ণ অবক্ষয়” হয়েছে এবং প্রশাসন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে তার মন্তব্য, এই নির্বাচন বিজেপি বনাম তৃণমূল নয়, বরং “জনতা বনাম তৃণমূল”-এর লড়াই। মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ জমা হয়েছে, তা এবার নির্বাচনে প্রতিফলিত হবে বলেও তিনি দাবি করেন।
বাংলার বিজেপির মুখ কে সেই প্রশ্নও ওঠে এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে। তার উত্তরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘বিজেপি ব্যক্তি নয়, নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে নির্বাচন লড়ে এবং জনগণই দলের মুখ।’ ক্ষমতায় এলে সাংবাদিকদেক সামাজিক সুরক্ষার দিকটিও দেখা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন শমীক। তিনি বলেন, ‘বহু সাংবাদিক অত্যন্ত প্রতিকূল এবং আর্থিক অনটনের মধ্যে কাজ করছেন। তাদের সামাজিক সুরক্ষা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। আমরা ক্ষমতায় এলে পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই সাংবাদিকদের এই ভাতা দেব।’