কলকাতা, ১৬ এপ্রিল : ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ অর্থাৎ মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিল আসলে ‘বঙ্গভঙ্গের ছক’, বৃহস্পতিবার কোচবিহারের ঘোকসাডাঙার ছোটশিমূলগুড়ি গ্রাউন্ডের জনসভা থেকে এমন দাবি করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি বলেন, “এখন বলছে বিল আনছে। মহিলাদের কত অসম্মান বলুন তো। ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ মহিলাদের। আমরা মন প্রাণ দিয়ে সমর্থন করেছি। সংসদে অনেক লড়াই করেছি। আমাদের দলও লড়াই করেছে। ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ বিল তো অনেকদিন পড়ে রয়েছে। তার সঙ্গে জনবিন্যাস কেন করছো? একসঙ্গে কেন? বাংলাকে ভাগ করার চক্রান্ত করছো?” এই বিল পেশের মাধ্যমে আসলে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং এনআরসি কার্যকর করার চক্রান্ত লুকিয়ে রয়েছে বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। আলিপুরদুয়ারের সভা থেকে বিজেপিকে কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বাইরে থেকে লোক এনে হোটেল বুক করে টাকা বিলি করা হচ্ছে। ভোটের সময় বহিরাগতদের এনে বিভিন্ন হোটেল ও গেস্ট হাউসে রাখা হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও অসম-সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে লোকজন আনা হয়েছে এবং তারা টাকা বিলির প্রলোভন দিচ্ছে। নিজেদের কর্মী না থাকায় এজেন্সির লোকদের দিয়ে ফর্ম পূরণ করানো হচ্ছে। আমাদের সঙ্গে বিজেপির মূল পার্থক্য হল, আমরা সমস্যার করি সমাধান, আর বিজেপি করে অত্যাচার আর মানুষে মানুষে ব্যবধান।’ তৃণমূলনেত্রী সতর্ক করে বলেন, ‘ভবিষ্যতের কথা ভেবে সবাইকে সাবধান থাকতে হবে। বাইরে থেকে আসা বিজেপির এজেন্সিগুলি ফর্ম পূরণের সময় মানুষের নাম, ঠিকানা, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং পরিবারের ফোন নম্বরের মতো ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে। ভোট মিটে যাওয়ার পর সেই তথ্যের অপব্যবহার করে অ্যাকাউন্টের টাকা হাতিয়ে নেবে।’
সপ্তম পে কমিশন নিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে বিজেপি তাকে আক্রমণ করে মমতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলে গেলেন, নাকি সপ্তম পে কমিশন চালু করবেন। আরে আমরা তো ওটা ফেব্রুয়ারি মাসেই চালু করে দিয়েছি। কিছু বলার আগে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারটাকে তো একটু সম্মান করুন। মিথ্যা কথা বলার আগে ভাল করে ক্রসচেক করুন।’
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে মমতা আরও বলেন, ‘তৃণমূলকে বলে চার্জশিট দিচ্ছি। আমি মোদীজিকে চার্জশিট দিচ্ছি। আপনার অর্থমন্ত্রীকে অবিলম্বে স্যাক করুন। আদর্শ আচরণবিধি ভেঙে কী করে তিনি ফর্ম বিলি করছেন! কেন বাজেটে রাখেনি! হিম্মত থাকলে বাজেটে রাখতেন, আপনি ভোটের আগে দিতেন, আমার কোনও আপত্তি ছিল না।’ দলের কর্মীদের উদ্দেশ্যে তৃণমূলনেত্রী বলেন, ‘আমাদের লোকেদের বলছে, সিকিউরিটি কেটে দাও। তৃণমূলকে মধ্যরাতে অ্যারেস্ট করে দাও। বুথ এজেন্টকে অ্যারেস্ট করে দাও। সকলকে বলব, প্যারালাল এজেন্ট রেডি রাখুন। মেয়েদেরও কাজে লাগান।’