কলকাতা, ১১ জুলাই– আরও ভাঙণ কালীঘাট তৃণমূলে। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের নেতা বলে পরিচিত অনুব্রত মন্ডলও শিবির বদলে যোগ দিলেন ঋতব্রত তৃণমূলে। শনিবার দলের জেলা কমিটি গঠনের জন্য কলকাতার তোপসিয়ায় একটি বৈঠক করেন ঋতব্রত পন্থীরা। আর সেই বৈঠকের পরে বীরভূমের জেলা সভাপতি পদে অনুব্রতর নাম ঘোষণা করেন ঋতব্রত।
জেলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর নেতা বলে পরিচিত কাজল শেখ আগেই যোগ দিয়েছেন ঋতব্রত শিবিরে। বীরভূমের দখল নিয়ে অনুব্রতের সঙ্গে কাজলের আকচাআকচির কথা অজানা নয়। খোদ মমতাও সেই ঝগড়া থামাতে পারেননি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এবার সেই শিবিরেই অনুব্রত। যা নিয়ে কালীঘাট তৃণমূল শিবিরের নেতা তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘শুভেন্দু অধিকারীর বি টিমে যারা যাচ্ছেন, তাদেরই তো বিজেপি গরুচোর, কয়লাচোর, পাথরচোর বলত।’ এই শিবিরের আরেক নেতা তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘যারা ও দিকে যাচ্ছেন, তাদের তিন ধরনের বিষয় রয়েছে। একাংশ যাচ্ছেন লোভে, একাংশ যাচ্ছেন বাঁচতে এবং অন্য অংশ যাচ্ছেন পুলিশ ও প্রশাসনের চাপে।’
আজকের এই বৈঠকে যোগ দেন ফিরহাদ হাকিম থেকে শুরু করে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সন্দীপন সাহারা। এই শিবিরেই যোগ দিয়েছেন তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেন। বেশ অবাক করে দিয়েই আজকের এই বৈঠকে হাজির হন পানিহাটীর প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ। আরজি কর মামলায় সিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদের পরে প্রায় অন্তরালে চলে গিয়েছিলেন নির্মল। সম্প্রতি লটারি মামলায় নাম জড়িয়েছে তার। গ্রেফতার হয়েছেন তার এক ঘনিষ্ঠ। এ হেন নির্মল এবার ঋতব্রত শিবিরের বৈঠকে। সেখানে ঢোকার আগে তিনি দাবি করেন, কোনও যোগদান নয়, তিনি জাভেদ আহমেদ খানের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। পরে বাইরে বেরিয়ে এসে তিনি জানান, তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলেই এসেছেন। যদিও ঋতব্রত শিবিরের তরফে দাবি করা হয়, হঠাৎ করে নিজেই আসেন নির্মল। বৈঠকে ঢুকে পড়েন। তার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও সাংবাদিক সম্মেলনে জানান ঋতব্রত। নির্মলের পুত্র এ বারের বিধানসভা ভোটে পানিহাটির প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষ এখনও পর্যন্ত খাতায়কলমে কালীঘাটের তৃণমূলের অংশ। তাকে যুব সংগঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির থেকে তবে কী বেরিয়ে আসবেন নির্মল। উত্তরে এই প্রবীণ নেতা বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমাদের হৃদয়-প্রাণ আছে।’ পাশাপাশি আরজি কর কাণ্ডে রাজনৈতিক কারণে তাঁর নাম টেনে আনা হচ্ছে বলে নাম না করে পানিহাটির বিজেপি বিধায়ককে নিশানা করেন তিনি।