কলকাতা, ১১ এপ্রিল – ফের কলকাতা ও রাজ্য পুলিশে বড়সড় রদবদল করল নির্বাচন কমিশন। বাংলায় নির্বাচন ঘোষণার পরেই রাজ্য প্রশাসনে একাধিকবার রদবদল করেছে কমিশন। এবার রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের একাংশ এবং কলকাতা পুলিশের তিন যুগ্ম কমিশনার পদে বদল আনা হয়েছে। বেশ কয়েকজন ডিসিপিকেও বদল করে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, কয়েকটি থানার আইসি, ওসি এবং অতিরিক্ত ওসি পদেও বদল আনা হয়েছে।
কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন রূপেশ কুমার। এ বার ওই পদে আনা হল সোমা দাস মিত্রকে। তিনি এত দিন সিআইডি-র ডিআইজি ছিলেন। বদলে দেওয়া হয়েছে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (সদর)-কেও। সেই পদে ছিলেন মিরাজ খালিদ। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হল সুদীপ সরকারকে। তিনি ছিলেন ডিআইজি (পার্সোনাল)। আর যুগ্ম কমিশনার (ইন্টালিজেন্স) সৌম্য রায়কে সরিয়ে আনা হল দেবস্মিতা দাসকে। রাজ্য পুলিশের ডিআইজি (এসটিএফ) ছিলেন তিনি। এ ছাড়াও, কলকাতা এবং রাজ্য পুলিশ মিলিয়ে মোট সাত জন ডিসি-কে বদল করে দিল কমিশন। ডিসি (ভাঙড়) সৈকত ঘোষের জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মণীশ জোশীকে। কলকাতা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) দীপক সরকারের জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হল ভিএসআর অনন্তনাগকে। ডিসি (পূর্ব), ডিসি (দক্ষিণ-পূর্ব), ডিসি (উত্তর) পদে বদল করে যথাক্রমে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রশান্ত চৌধুরী, সৈকত ঘোষ এবং প্রদীপকুমার যাদবকে।
সুন্দরবন পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার (সদর) পদে চন্দন ঘোষকে দায়িত্ব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ ছাড়াও, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের থানার ওসি, অতিরিক্ত ওসি পদে বদল করেছে কমিশন। সব মিলিয়ে একসঙ্গে ৫০-এর বেশি পদে রদবদল করল কমিশন। নির্বাচন ঘোষণার পরেই মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে শুরু করে কলকাতার পুলিশ কমিশনার, রাজ্য পুলিশের ডিজি থেকে শুরু করে বিরাট রদবদল আনা হয় প্রশাসনিক স্তরে। যা নিয়ে প্রকাশ্যেই সুর চড়িয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেছেন। তারপরেও একাধিকবার প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বদল এনেছে কমিশন।