কলকাতা, ২৪ অক্টোবর– পুরনো ঘটনার কথা মনে করিয়ে এবার তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কাকদ্বীপ স্টেডিয়ামে সুন্দরবন বিষয়ক দপ্তরের একটি অনুষ্ঠান থেকে নাম না করে মমতার দিল্লিতে প্রিজন ভ্যানে ওঠার প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু দাবি করেন যে, সনাতনী শক্তির আঘাত এবং মা কালীর অভিশাপের কারণেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
কাকদ্বীপের সভা থেকে অতীতে ঘটে যাওয়া এক বিতর্কিত ঘটনার প্রসঙ্গ উস্কে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত বছর সূর্যনগরে মা কালীকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়েছিল। যে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এই নির্মম ঘটনা ঘটেছিল, তাকেও এ বছর মহালয়ার দিন দিল্লিতে প্রিজন ভ্যানে উঠতে হয়েছে। এটাই সনাতনের তাকত (শক্তি)। এটাই মা দুর্গা, মা কালীর আসল শক্তি। চিরদিন কারও সমান যায় না।’ একই সঙ্গে অতীতে তাকে লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ার প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু দাবি করেন, একসময় যারা তাকে পাথর ছুড়ে অপমান করার চেষ্টা করেছিল, আজ তারাই রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তাঁকে সানন্দে স্বাগত জানাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে কাকদ্বীপের সূর্যনগরে কালী প্রতিমা ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকা চরম উত্তাল হয়ে উঠেছিল। তৎকালীন আইপিএস আধিকারিক কোটেশ্বর রাওয়ের নেতৃত্বে উত্তেজিত সাধারণ মানুষের ওপর লাঠিচার্জ চালানো হয় এবং পরবর্তীতে মা কালীর প্রতিমাকে প্রিজন ভ্যানে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনাকে সনাতন ধর্মের আস্থার ওপর চরম আঘাত আখ্যা দিয়ে তৎকালীন আইপিএস কোটেশ্বর রাওকে বরখাস্ত বা সাসপেন্ড করার নির্দেশও দেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি সুন্দরবন ও কাকদ্বীপে উন্নয়নের বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার কথায়, ‘গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতেই আমি আজ এখানে এসেছি। অবহেলিত সুন্দরবনের উন্নয়ন করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বিগত সরকার এই অঞ্চলের জন্য ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও মাত্র ২০০ কোটি টাকার কাজ হয়েছিল, আর বাকি ৮০ শতাংশ টাকাই চুরি হয়ে গিয়েছিল। আমাদের নতুন সরকার এবার সুন্দরবনের কল্যাণে একলাফে ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।’ সুন্দরবন অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক পরিষেবাকে আরও গতিশীল করতে সমস্ত দ্বীপকে এক করে একটি ‘সুন্দরবন মডেল’ গড়ে তোলার রূপরেখাও তুলে ধরেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়ায় একটু সময় লাগলেও কাকদ্বীপকে স্বতন্ত্র জেলা হিসেবে রূপ দেওয়ার বিষয়ে তিনি প্রতিশ্রতিবদ্ধ। সুন্দরবনের দ্বীপগুলির মধ্যে যোগাযোগ ও পরিকাঠামোর সার্বিক উন্নতির মাধ্যমেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা হবে বলে জানান তিনি। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ শংসাপত্র প্রদান নিয়ে জেলা প্রশাসনকে এদিন একপ্রকার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শরণার্থী ও অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে স্পষ্ট ফারাক বুঝিয়ে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে যারা নিজেদের জীবন ও ধর্ম বাঁচাতে সর্বস্ব হারিয়ে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন, তাদের কোনওভাবেই অনুপ্রবেশকারী বলা চলে না, তারা প্রত্যেকেই শরণার্থী। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) এবং কাকদ্বীপের এসডিও-কে অবিলম্বে সমস্ত যোগ্য শরণার্থীদের হাতে দ্রুত সিএএ সার্টিফিকেট তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।