প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্তে কমিশন গঠন রাজ্য সরকারের

কলকাতা, ১৪ জুলাই- পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্তে এবার কমিশন গঠন করল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। কমিশনের শীর্ষে থাকবেন কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। নবান্নের তরফে গত ১০ জুলাই একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, ২০১১ থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত শিক্ষা, খাদ্য ও জোগান, ত্রাণ থেকে বিপর্যয় মোকাবিলা, পুরসভা এবং পঞ্চায়েত নিয়ন্ত্রিত ক্ষেত্র, আবাসন, মৎস্য-সহ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের কাজ নিয়ে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে হবে তদন্ত।

            আগেই মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়েছিলেন, আগের সরকারের আমলে যা যা দুর্নীতি হয়েছে তার যথাযথ তদন্ত হবে। বাংলায় ক্ষমতায় আসার পরে বিধানসভায় পাশ হয়েছে গুন্ডাদমন বিল। রাজ্যপালের সম্মতির পরে এখন তা আইনে পরিণত। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘অনেকেই ভাবছেন, দু’মাস জেলে থাকলাম, তার পর আইনি লড়াই করে জেল থেকে বেরিয়ে এলাম! তাদের মনে রাখতে হবে, এ বার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করব। সম্পত্তি নিলাম করব।’ এরই মধ্যে আগেই স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘুষ ও দুর্নীতি, আম্পান ত্রাণে দুর্নীতি, ১০০ দিনের কাজে অনিয়ম, মিড-ডে মিল প্রকল্পে দুর্নীতি, সরকারি টাকা আত্মসাৎ বা অপব্যবহার, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি চাকরিতে নিয়োগে দুর্নীতি, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতি, সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল শিক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করবে রাজ্য সরকারের গঠিত কমিশন। বেআইনি গ্রেফতার বা মিথ্যা মামলা হয়েছে কি না, বেআইনি নির্মাণে সরকারের কী ভূমিকা— তা-ও খতিয়ে দেখবে কমিশন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে, মিথ্যা মামলা করে ফাঁসানোর ঘটনার অভিযোগও খতিয়ে দেখবে কমিশন। কী ভাবে পুরসভার নীতি ভেঙে বেআইনি নির্মাণ হয়েছে, স্কুল শিক্ষায় কী ভাবে দুর্নীতি হয়েছে, তারও তদন্ত করবে কমিশন। তাদের সিভিল কোর্টের মতোই ক্ষমতা থাকবে। প্রয়োজন বুঝে যে কোনও ব্যক্তিকে তলব করে বয়ান নিতে পারবে। সবমিলিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার।  

Sumit Chakraborty: