ভোটার তালিকা সংশোধনে তাড়াহুড়ো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ অমর্ত্য সেনের

“যথাযথ সময় নিয়ে এবং যত্নসহকারে ভোটার তালিকা সংশোধন করা হলে তা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। কিন্তু এখন পশ্চিমবঙ্গে যা হচ্ছে, তা সেই ধরনের নয়।”

অনলাইন ডেস্ক, কলকাতা: নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন পশ্চিমবঙ্গে চলমান স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, এই প্রক্রিয়া অযথা তাড়াহুড়ো করে করা হচ্ছে, যা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

৯২ বছর বয়সি অমর্ত্য সেন বোস্টন থেকে পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধন গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা অবশ্যই পর্যাপ্ত সময় ও সতর্কতার সঙ্গে করা দরকার। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সেই শর্তগুলি মানা হচ্ছে না বলেই তাঁর মত।

অমর্ত্য সেন বলেন, “যথাযথ সময় নিয়ে এবং যত্নসহকারে ভোটার তালিকা সংশোধন করা হলে তা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। কিন্তু এখন পশ্চিমবঙ্গে যা হচ্ছে, তা সেই ধরনের নয়।” তাঁর অভিযোগ, খুব কম সময়ের মধ্যে মানুষকে ভোটাধিকার প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে বলা হচ্ছে, যা সাধারণ ভোটারদের পক্ষে অন্যায়।

তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। শান্তিনিকেতন থেকে আগেও ভোট দেওয়া সত্ত্বেও, তাঁর ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমনকি নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা তাঁর প্রয়াত মায়ের বয়স নিয়েও প্রশ্ন তোলেন, যদিও সেই তথ্য আগেই সরকারি নথিতে ছিল। এতে বোঝা যায়, সময়ের অভাবে আধিকারিকদের মধ্যেও চাপ কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অমর্ত্য সেন আরও জানান, গ্রামীণ ভারতে জন্মানো বহু মানুষের মতো তাঁরও জন্মসনদ নেই। ফলে ভোটার হিসেবে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে তাঁকে অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা দিতে হয়। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি মিটলেও, যাঁদের এই ধরনের সাহায্য বা পরিচিতজন নেই, তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি চিন্তিত।

রাজনৈতিকভাবে এই প্রক্রিয়া কারও লাভ বা ক্ষতি করছে কি না—এই প্রশ্নে অমর্ত্য সেন বলেন, তিনি নির্বাচন বিশেষজ্ঞ নন। তবে গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। কার লাভ হচ্ছে তা নয়, ভুল পদ্ধতি যেন গণতন্ত্রের উপর চাপিয়ে দেওয়া না হয়—এই বার্তাই দেন তিনি।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কারা হতে পারেন, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষজনই এই প্রক্রিয়ায় বাদ পড়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। কারণ ভোটার তালিকায় নাম তুলতে যে নথিপত্র দরকার, তা সমাজের দুর্বল শ্রেণির মানুষের পক্ষে জোগাড় করা কঠিন।

অমর্ত্য সেনের মতে, নথিপত্রের উপর অতিরিক্ত জোর দিলে শ্রেণিভিত্তিক বৈষম্য তৈরি হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত দেশের গণতন্ত্রের জন্য ভালো নয়।

Sujoy Guha: