অনলাইন ডেস্ক, কলকাতা: মঙ্গলবার ফিউচার্স বাজারে রুপোর দাম লাফিয়ে কেজি প্রতি সর্বকালীন রেকর্ড ৩.৫৯ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে সোনার দামও ১০ গ্রাম প্রতি জীবনের সর্বোচ্চ ১.৫৯ লক্ষ টাকা ছুঁয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগকারীদের শক্ত চাহিদাই এই দামের উল্লম্ফনের মূল কারণ বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) মার্চ ডেলিভারির রুপোর দাম ২৫,১০১ টাকা বা ৭.৫ শতাংশ বেড়ে কেজি প্রতি ৩,৫৯,৮০০ টাকায় পৌঁছায়। গত সপ্তাহেই রুপোর দাম ৪৬,৯৩৭ টাকা বা ১৬.৩ শতাংশ বেড়ে প্রথমবারের মতো কেজি প্রতি ৩ লক্ষ টাকার গণ্ডি পেরিয়েছিল।
সোনার ক্ষেত্রেও ঊর্ধ্বগতি বজায় রয়েছে। ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির সোনার ফিউচার্সের দাম ৩,৭৮৩ টাকা বা ২.৪২ শতাংশ বেড়ে ১০ গ্রাম প্রতি ১,৫৯,৮২০ টাকায় পৌঁছেছে। গত এক সপ্তাহে সোনার দাম মোট ১৩,৫২০ টাকা বা ৯.৫ শতাংশ বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নীতিগত অনিশ্চয়তার জেরে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনা ও রুপোর দিকে ঝুঁকছেন। ফলে এই দুই মূল্যবান ধাতুর দাম দ্রুত বেড়েছে।
মেহতা ইকুইটিজের ভিপি (কমোডিটিজ) রাহুল কলান্ত্রি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ কোরিয়ার আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর হুমকিসহ নতুন করে বাণিজ্য উত্তেজনা বাজারের মনোভাবকে দুর্বল করেছে। পাশাপাশি আর্থিক শৃঙ্খলা ও নীতিগত বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় সরকারি বন্ড ও মুদ্রার ওপর আস্থা কমছে, যার ফলে সোনা-রুপোর মতো সম্পদের দিকে ঝোঁক বাড়ছে।
কমোডিটি বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের পেশ করতে চলা কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-এর দিকেও নজর রাখছেন ব্যবসায়ীরা। আমদানি শুল্ক ও আর্থিক নীতিতে কোনও পরিবর্তন হলে তা দেশের বুলিয়ন বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে সোমবার দেশীয় কমোডিটি বাজার বন্ধ ছিল।
আন্তর্জাতিক বাজারে অবশ্য মুনাফা তুলে নেওয়ার কারণে দাম কিছুটা কমেছে। কমেক্সে মার্চ ডেলিভারির রুপোর ফিউচার্স ৬.২৭ শতাংশ কমে আউন্স প্রতি ১০৮.২৬ ডলারে নেমেছে। আগের সেশনে এই ধাতু আউন্স প্রতি রেকর্ড ১১৭.২৬ ডলারে পৌঁছেছিল এবং শুক্রবার প্রথমবার ১০০ ডলারের গণ্ডি পেরিয়েছিল।