বান্ধবী ফিরতেই ঘোর বর্ষায় ‘বসন্ত উদযাপন’ শর্মিষ্ঠা, মালবিকাদের

সন্দীপ বসু

‘বন্ধু হারালে দুনিয়াটা খাঁ খাঁ করে…’।

বন্ধুকে যদি ছেড়ে যেতে হয় প্রিয় স্থান? সেই যন্ত্রণা কাকে বলার? কাকে বোঝানোর?

দু’দশকের বেশি সময়ের বন্ধুত্ব বুকে আঁকড়ে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন বান্ধবী শর্মিষ্ঠা। তসলিমাকে নিয়ে শর্মিষ্ঠারা পাঁচ বান্ধবী।
এতদিন চেষ্টা করেছেন পঞ্চম বান্ধবীকে ফিরিয়ে আনার। বারবার ছুটে গিয়েছেন বন্ধুর কাছেও। শুক্রবার এলো সেই দিন। উচ্ছাস-আবেগ মিলেমিশে গেল বিমানবন্দর চত্বর। চার বান্ধবীর সঙ্গে তিন বন্ধুও জড়ো হয়েছিলেন। সবার হাতে একসঙ্গে ধরা একটা ব্যানার, যেখানে লেখা; ‘স্বাগতম তসলিমা নাসরিন’।

বান্ধবী নির্বাসিত ছিলেন তাঁর অন্যতম প্রিয় শহর থেকে। যোগাযোগ ছিল কী প্রশ্ন করতেই শর্মিষ্ঠা বললেন, ‘ও যেখানে থাকত, আমরা সেখানে দেখা করতাম। ওর কাছাকাছি আত্মীয়-স্বজন নেই, আমরাই জন্মদিনে পৌঁছে যেতাম।’

২০০৭ সালের পর, প্রায় ২০১৪ পর্যন্ত তাঁরা ২২ নভেম্বর ‘লজ্জা দিবস’ হিসেবে পালন করতেন। বান্ধবীকে ফিরিয়ে আনতেও চেষ্টাও কম করেননি। ছুটে বেড়িয়েছেন রাজ্য থেকে কেন্দ্র সরকারের দফতরগুলিতেও। তবুও আনতে পারেননি। একই সঙ্গে শর্মিষ্ঠা আশাবাদী ছিলেন, দিল্লির সরকার আর বাংলার সরকার একই দলের হওয়ায়, বান্ধবী ফিরতে পারবেন।

সেই দিন এল, ঘোর বর্ষায়, জুলাই শেষে। আবেগ চেপে রাখতে না পেরে তসলিমার আর এক বান্ধবী মালবিকা বললেন, ‘সেদিন বাংলায় যা ভুল হয়েছিল, আজ তার প্রায়শ্চিত্ত হল।’ দীর্ঘ ২০ বছর পর আবারও কলকাতায় ফিরছেন তসলিমা নাসরিন। তাকে শহরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ওসমান গণি মল্লিকের সংগঠন সেকুলার মিশন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে।

Sumit Chakraborty: