পাহাড়ের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী শাহ, গঠিত হলো কমিটি

কলকাতা, ২২ আগস্ট- পাহাড়ের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্য শনিবার দীর্ঘ বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পাহাড়ের উন্নয়ন, কর্মসংস্কৃতিকে ফেরানো এবং পর্যটনে কীভাবে উন্নতি করা যায় তা নিয়েই আলোচনায় অমিত শাহের বৈঠকে হাজির হন বিমল গুরুং, রোশন গিরিরা।  রাজ্যে পালাবদলের পর এই প্রথম দার্জিলিংয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হল। পাহাড়ের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ‘শাহী নকশা’ তৈরি হল। গঠিত হল স্থায়ী কমিটিও।

            বৃহস্পতিবার রাতেই উত্তরবঙ্গ সফরে আসেন শাহ। শুক্রবার দিনভর সীমান্ত সুরক্ষা সংক্রান্ত একাধিক বৈঠকে যোগ দেন। আর শনিবার পাহাড় সমস্যা সমাধানে বৈঠক করলেন তিনি। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, পাহাড়ের উন্নয়ন কীভাবে করা যায় তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। বৈঠকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন আইপিএস পঙ্কজকুমার সিং। দীর্ঘ সময় ধরে গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে পাহাড়ে আন্দোলন চলেছে। অতীতে রক্তপাতও দেখেছে পাহাড়। এবার বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ে বিজেপির জোটসঙ্গী ছিল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। পাহাড়ে বিজেপির জয়ের অন্যতম কাণ্ডারি ছিলেন গোর্খা নেতা বিমল গুরুং। এমনই মনে করেছেন রাজনৈতিক মহল। সেই পরিস্থিতিতে শাহের উপস্থিতিতে এই বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

            রাজ্য সরকারের তরফে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা হাজির ছিলেন বৈঠকে। দীর্ঘ বৈঠকের পরে একটি বৈঠক গঠিত হয়েছে। সেই কমিটির মাথায় থাকছেন বিএসএফের প্রাক্তন ডিজি প্রাক্তন আইপিএস পঙ্কজকুমার সিং। তবে কতজনকে নিয়ে কমিটি গঠিত হল? কারা ওই কমিটিতে আছে? সেই বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। পাহাড়ের উন্নয়নে তৃণমূল আমলে গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাকট (জিটিএ) তৈরি হয়েছিল। গত তৃণমূল সরকারের আমলে জিটিএতে আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, শিক্ষক দুর্নীতি-সহ পর্যটন ক্ষেত্রেও একাধিক দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। ডবল ইঞ্জিন সরকারে পাহাড়ে উন্নয়নই একমাত্র লক্ষ্য বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছিল। এদিনের বৈঠকেও একইভাবে দার্জিলিংয়ের উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বৈঠকে জানিয়েছেন, সাংবিধানিকভাবেই পাহাড়ের সমস্যার সমাধান হবে। পাহাড়ের উন্নয়ন নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা বৈঠক করবেন শাহ। পাহাড়ের উন্নয়ন, সমস্যার সমাধান সাংবিধানিক পথেই হোক, সেই কথায় সম্মতি প্রকাশ করেছেন বিমল গুরুং, রোশন গিরিরা।

Sumit Chakraborty: