অনলাইন ডেস্ক, কলকাতা: আই-প্যাক (I-PAC) অফিস ও সংস্থার ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে বাধার অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) করা মামলার শুনানি মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি রাখল সুপ্রিম কোর্ট।
বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি এন ভি অঞ্জারিয়ার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে ইডির পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইতিমধ্যেই হলফনামা জমা দিয়েছে এবং সেই নথি খতিয়ে দেখতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। সেই আবেদন মেনেই মামলার শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে, গত ১৫ জানুয়ারি শীর্ষ আদালত মন্তব্য করেছিল, ইডির তদন্তে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা ‘বাধা দেওয়ার’ অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। একই সঙ্গে আদালত প্রশ্ন তোলে—কোনও রাজ্যের আইন-রক্ষাকারী সংস্থা কি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার গুরুতর অপরাধ সংক্রান্ত তদন্তে হস্তক্ষেপ করতে পারে?
সুপ্রিম কোর্ট ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গে দায়ের হওয়া এফআইআরগুলিতে স্থগিতাদেশ দেয় এবং রাজ্য পুলিশকে তল্লাশি সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি, এই ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, ডিজিপি রাজীব কুমার ও শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের নোটিস পাঠানো হয়। ইডির দাবি অনুযায়ী, তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তেরও আবেদন জানানো হয়েছে।
ইডির অভিযোগ, তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী নিজে আই-প্যাক অফিসে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরিয়ে নেওয়া হয়। এর ফলে তদন্তে যুক্ত আধিকারিকদের উপর চাপ তৈরি হয় এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে দাবি ইডির।
এই মামলা সূত্রপাত ৮ জানুয়ারির ঘটনার পর, যেদিন কথিত বহু কোটি টাকার কয়লা পাচার ও অর্থপাচার মামলায় কলকাতায় আই-প্যাক অফিস ও প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। তল্লাশির সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব সেখানে পৌঁছে ইডি আধিকারিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান বলে অভিযোগ। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থা তার ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করেছে।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে। তবে তৃণমূল কংগ্রেস ইডির সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলের বক্তব্য, আই-প্যাক তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণকারী সংস্থা এবং ইডির এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য গোপন নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া। তাদের দাবি, এটি কোনও প্রকৃত তদন্ত নয়, বরং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ।