বারাসাত, ১০ এপ্রিল – শুক্রবার কলকাতায় এসে দলের ইস্তেহার প্রকাশ করে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে একবার বিজেপিকে সরকার গড়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য বাংলার মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। পাল্টা বারাসাতের কাছাড়ি ময়দানের সভা থেকে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করলেন, কলকাতায় বসে আগাগোড়া মিথ্যাচার করেছেন শাহ। তিনি বলেন, ‘ভোটের আগে বলেছিল সবার অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ করে ঢুকবে, পেয়েছেন? এখন এসেছে মিথ্যে কথার ঝুলি নিয়ে। মিথ্যের ফুলঝুড়ি নিয়ে। এরা কোকিলের মতো ভোটের সময় আসে, মিথ্যে বলে, ফুরুৎ করে পালিয়ে যায়।’
তৃণমূলনেত্রীর অভিযোগ, ‘রাজস্থান, দিল্লি, অসমে ছেলেমেয়েদের উপর অত্যাচার করছে ডবল ইঞ্জিন সরকার। লজ্জা করে না! এখন বাংলার মাটিতে এসে বলছে সুনার বাংলা গড়বে। ওদের জিভ টেনে ছিঁড়ে নেওয়া উচিত মানুষের গণতন্ত্রের মাধ্যমে।’ কটাক্ষের সুরে মমতা বলেন, ‘দাঙ্গা করে ক্ষমতায় এসেছে। ঠাকুমার ঝুলি নয়, মিথ্যের ফুলঝুড়ি নিয়ে ছুটছে।’
স্বরূপনগরের সভা থেকে এসআইআর নিয়েও আজ ফের সুর চড়িয়েছেন মমতা। তার কথায়, ‘একটি সংবাদে দেখলাম যে, ৯০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গিয়েছে, তার মধ্যে নাকি ৬০ লক্ষই হিন্দু, আর ৩০ লক্ষ মুসলমান। আমি এখনও সময় পাইনি। ব্লক স্তরে সমীক্ষা করার পরেই আমার পার্টি (দল) নিশ্চিত হয়ে বলতে পারবে। বিজেপির নেশা মানুষের ভোটাধিকার কাড়া। এনআরসি করে ১৯ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছিল অসমে। এখন বাংলায় সেই চেষ্টা চালাচ্ছে। অঙ্কটা ভাল করে বুঝবেন। তোমার বেলায় অধিকার, আমার বেলায় বহিস্কার চলতে পারে না। নাম না করে আজ মোদি-শাহকে ‘কানাবাবু’ আক্রমণ করেন মমতা।’ তিনি বলেন, ‘বাচ্চা ছেলেরা অন্যায় করলে কানমোলা, বকাবকি দেয় মা-বোনেরা। বুড়ো খোকারা যদি এত মানুষের নাম কেটে দেয়, জোর করে ইডি সিবিআই দিয়ে ভোট করায়, তার বদলা নিতে গণতন্ত্রের থাপ্পড় দেবেন।’