কলকাতা অফিস, ২ জুলাই- দলের অধিকারের দাবিতে এবার একেবারে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের দ্বারস্থ হলেন ‘আসল তৃণমূল’-এর দাবি করা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ৯ বিধায়ক। তাদের সঙ্গে একজন প্রাক্তন মন্ত্রীও ছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ঋতব্রতদের সময় দেয় কমিশন। সেখানে বৈঠকের পরে বাইরে বেরিয়ে ঋতব্রতর মন্তব্য, ‘আমরাই আসল তৃণমূল। এ আবার নতুন করে বলার কী আছে। কেউ ক্যালিফোর্ণিয়া থেকেও দাবি করতে পারে, আমি তৃণমূল। তাতে কিছু যায় আসে না।’ পাশাপাশি নাম না-করে ‘চার্টার্ড ব্যুরোক্র্যাট’ বলে কটাক্ষ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
ঋতব্রতদের এই পদক্ষেপকে অবশ্য কটাক্ষ করেছে মমতার তৃণমূল। বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “তৃণমূল মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমস্ত কর্মী এবং সমর্থক তাঁর সঙ্গেই আছেন। যাঁরা আজকে নিজেদের ‘আসল’ বলে দাবি করছেন, দু’মাস আগে কমিশনে তারা যে হলফনামা দিয়েছিলেন, তার নির্দিষ্ট দু’টি ফর্মে মমতাদি এবং অভিষেকের সই ছিল। আজকে ভাড়াটিয়া নিজেকে বাড়ির মালিক বলে দাবি করলে কী হবে?” পরে দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ এবং লোকসভার সাংসদ সৌগত রায় ঋতব্রতদের কমিশন-সফরকে ‘অবৈধ’ বলে তোপ দাগেন। দুই তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নির্বাচন কমিশনকে পরিচালনা করছেন। কালীঘাট তৃণমূলের দাবি, বিজেপিই এই ঋতব্রতদের পরিচালনা করছে।
পাল্টা আজ সুর চড়িয়েছেন ঋতব্রত। দলের প্রতীক এবং তহবিল কোন শিবিরের হাতে যাবে, এই প্রশ্নের উত্তরে ঋতব্রত বলেন, ‘কোনও রকম বিতর্কের কোনও প্রশ্নই নেই। দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক আমাদের সঙ্গে। প্রাক্তন মন্ত্রীরা আমাদের সঙ্গে। কাউন্সিলররা আমাদের সঙ্গে, জেলা পরিষদের সদস্যরাও আমাদের সঙ্গে। আমরা প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি কমিশনের কাছে জমা দিয়েছি। আশা রাখি, কমিশনের তরফ থেকে দ্রুত ডাক পাব।’ তার দাবি, গোটা দলটাই পারিবারিক দলে পরিণত হয়েছিল। সেই ব্যক্তি এবং পরিবারের বিরুদ্ধেই যে তাদের লড়াই তা এদিন স্পষ্ট করে ঋতব্রত বলেন, ‘চার্টার্ড ব্যুরোক্র্যাটের কথায় দল চলবে না।’ সূত্রের খবর, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে দেওয়া চিঠি এবং দিল্লিতে পাঠানো ইমেলে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে দলের নাম, নির্বাচনী প্রতীক (জোড়াফুল) এবং তহবিল নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা চেয়েছে ঋতব্রত শিবির। বৃহস্পতিবারের এই বৈঠকের পরে নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, জোড়াফুল প্রতীক কাদের হাতে থাকে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।