তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্রের পদে ইস্তফা শান্তনু সেনের, সরব আর জি কর কান্ড নিয়ে

কলকাতা, ২৮ মে- ছাব্বিশের ভোটে ভরাডুবির পর থেকেই দলীয় পদ ছাড়ার হিড়িক পড়েছে তৃণমূলে। ইতিমধ্যে দলের সব পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করে দলীয় নেতৃত্বকে চিঠি দিয়েছেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। কলকাতা পুর নিগমের নানা পদ থেকে পদত্যাগ করছেন তৃণমূলের কাউন্সিলাররা। এবার সেই তালিকায় তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেন। বৃহস্পতিবার তিনি দলের জাতীয় মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লেখা ইস্তফাপত্রে তিনি লিখেছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলার মানুষ যখন আর জি কর কাণ্ড, অভয়া কাণ্ড, চাকরি বিক্রি-সহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজ ও দুর্নীতির জন্য আমাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, সেই অবস্থায় আমার মন আর কোনওভাবেই মুখপাত্র হিসেবে এগুলোকে সমর্থন করার সম্মতি দিচ্ছে না।’

            আর জি কর কান্ড নিয়ে আগেই সরব হয়েছিলেন শান্তনু। সেইসময়ে তাকে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়। বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবার দলে ফেরানো হয় শান্তনুকে। এবার তৃণমূলের ভরাডুবি হতেই ফের সেই পুরনো প্রসঙ্গ টেনে আক্রমণে নেমেছেন শান্তনু সেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে আর জি কর কান্ড নিয়ে সরব হওয়ার পাশাপাশি এদিন দলীয় মুখপাত্রের পদ থেকেও ইস্তফা দিলেন তিনি।

            ছাব্বিশে রাজ্যে সরকার বদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর তৎপরতায় নতুন করে খোলা হয়েছে আর জি কর ফাইল। মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিলেন আর জি করের প্রাক্তন ডাঃ শান্তনু সেন। বুধবার তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আর জি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ ডাঃ সন্দীপ ঘোষ, চেয়ারম্যান তথা চিকিৎসক-বিধায়ক সুদীপ্ত রায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। এও বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চাইলে, আর জি করের ঘটনায় তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে প্রস্তুত। শুধুমাত্র মেয়ের কেরিয়ারের কথা ভেবে এতদিন মুখ বন্ধ রেখেছিলাম। কিন্তু এখন মেয়ে ডাক্তার হয়ে গেছে। তাই আর কোনও পিছুটান নেই।’

            বৃহস্পতিবারের চিঠিতে নিজেকে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘অনুগত সৈনিক’ বলে দাবি করে শান্তনু লিখেছেন, ‘বিভিন্ন কঠিন সময়ে মন সায় না দিলেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ্যে দলের হয়ে লড়াই করেছি, যার জন্য সাধারণ মানুষ আমাকে অনেক সময় কথা শুনিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলার মানুষ যখন আর জি কর কাণ্ড, অভয়া কাণ্ড, চাকরি বিক্রি-সহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজ ও দুর্নীতির জন্য আমাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, সেই অবস্থায় আমার মন আর কোনওভাবেই মুখপাত্র হিসেবে এগুলোকে সমর্থন করার সম্মতি দিচ্ছে না।’ 

Sumit Chakraborty: