কলকাতা, ১৫ জুন– ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই। যে দলটির নামের সঙ্গেই বাংলার মানুষ বিশেষ একটা পরিচিত ছিলেন না, সেই দলেই এবার নাম লেখালেন ২০ জন সাংসদ। ত্রিপুরার দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটে লড়ে এই দল মাত্র ৮২২টি ভোট পেয়েছিল। লোকসভায় তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ রবিবার এই দলের সঙ্গে নিজেদের ব্লককে মিশিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তার পরেই রাতারাতি গোটা দেশের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে এই এনসিপিআই।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট ঘেঁটে জানা গিয়েছে, ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া নামের একটি দল ২০২৩ সালে আরইউপিপি (রেজ়িস্টার্ড আনরেকগনাইজ়ড পলিটিক্যাল পার্টি) তালিকাভুক্ত হয়। এখনও পর্যন্ত এটি কমিশনের অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল। দলটির ঠিকানা হিসাবে দেখানো হয় হাওড়ার সাঁকরাইল থানা এলাকায় অবস্থিত একটি বাড়িকে। সবুজ রঙে রাঙানো বাড়িটির নাম ‘জাগো বিশ্ব’। ঠিকানা সাঁকরাইল থানা এলাকার হাটগাছা গ্রাম। এই বাড়ির মালিক উত্তীয় কুন্ডু এবং তার স্ত্রী শিউলি কুন্ডু। ওই বাড়িতেই একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা এনজিও চালান তাঁরা। উত্তীয় এনসিপিআই-এর ‘সভাপতি’। আর তার স্ত্রী দলের ‘প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট’। শিউলি অবশ্য জানান, তিনি পদ ছেড়ে দিয়েছেন। তবে তৃণমূল থেকে যে সাংসদেরা নতুন দলে আসছেন, তাদের স্বাগত জানিয়েছেন শিউলি। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যা এবং শর্মিলা সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিমন্ত্রীর পদ পেতে পারেন বলেও শুরু হয়েছে জল্পনা।
এনসিপিআই-এর ‘ ‘ন্যাশনাল অর্গানাইজ়িং জেনারেল সেক্রেটারি’ পদে রয়েছেন শান্তনু দে। রবিবার তিনি বলেছিলেন, “আমি এই দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। আজকের এই ঘটনার বিষয় কিছু জানানো হয়নি। যদি জানতাম তা হলে আমি এর বিরোধিতা করতাম। এখনও বিরোধিতা করছি।” সোমবার অবশ্য অবস্থান বদলান তিনি। যে কুড়িজন বিদ্রোহী সাংসদ এই দলে যোগ দিয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন বর্ষীয়ান নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, এনসিপিআই-তে যোগ দিতেই ‘ওয়াই’ ক্যাটাগরি নিরাপত্তা পাচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে, বাকি বিক্ষুব্ধ সাংসদদেরও নিরাপত্তা বাড়তে চলেছে বলে খবর। পাশাপাশি জানা গেছে, এনসিপিআই-এর হাওড়ার দফতরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, এই নতুন দলের মূল রাজনৈতিক ভরকেন্দ্র বা ফোকাস হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং ত্রিপুরা। এনসিপিআই-তে যোগ দিলেও বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-কেই সমর্থন করবেন বিদ্রোহীরা তৃণমূল সাংসদরা। ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে উঠেছে দলটি। এনসিপিআই-এর নামে খোলা একটি ফেসবুক পাতায় বিদ্রোহী সাংসদদের স্বাগত জানিয়ে একাধিক পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, লোকসভায় সাংসদ সংখ্যার বিচারে পশ্চিমবঙ্গে তারাই এখন বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি। সবমিলিয়ে একটি অপরিচিত দলের সঙ্গে একযোগে এতজন সাংসদের জড়িয়ে যাওয়া বাংলার রাজনীতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।