কলকাতা, ১৫ মে– বঙ্গ বিধানসভার নতুন অধ্যক্ষ হলেন কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্র বসু। এবারই প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে জিতে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন রথীন্দ্রবাবু। আর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় শুক্রবার ধ্বনিভোটে অধ্যক্ষ নির্বাচিত হলেন।
শাসকদল বিজেপির তরফে অধ্যক্ষ হিসাবে রথীন্দ্রের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। শুক্রবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেই প্রস্তাব দেন। তা সমর্থন করেন দিলীপ ঘোষ। ধ্বনি ভোটে অধ্যক্ষ নির্বাচনে জয়ী হন রথীন্দ্র। বন্দে মাতরম্ গান দিয়ে অধিবেশন শুরু হয়েছে। তবে এই অধ্যক্ষ নির্বাচনের সময়ে তৃণমূলের কোনও বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন না। বিধানসভার সদস্যদের সমর্থনের পর মুখ্যমন্ত্রী তথা শাসকদলের পরিষদীয় দলনেতা শুভেন্দু এবং বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে রথীন্দ্র অধ্যক্ষের আসনে বসেন। তাকে শুভেচ্ছা জানান প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রথা মেনে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রথমে বলার অনুমতি দেন অধ্যক্ষ। নতুন অধ্যক্ষকে স্বাগত জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তার বক্তৃতায় বলেছেন, বিরোধী দলের বিধায়কেরা সংখ্যায় অনেকটা কম থাকলেও তারা নির্দিষ্ট সময়ের থেকে বেশি সময় পাবেন বলার জন্য। তবে প্রথম থেকেই বিধানসভার কার্যপ্রণালী বানচাল করার প্রয়াস থেকে বিরোধী বিধায়কেরা বিরত থাকবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন শুভেন্দু। তারপরেই বলতে ওঠেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘বিজেপি ভয় নয়, ভরসার কথা বলেছিল। কিন্তু এখন সেই ভরসা চলে গিয়ে ভয় দশগুণ বেড়ে গিয়েছে। আমাদের দলের অনেক কর্মী ঘরছাড়া।’ শোভনদেবের এই মন্তব্যের বিরোধিতা করতে শুরু করেন বিজেপির বিধায়কেরা। তাদের থামিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘আপনারা কেউ বাধা দেবেন না। সরকারের তরফে যথাসময়ে এর জবাব দেওয়া হবে।’ পাশাপাশি শুভেন্দু বলেন, ‘বিরোধী দলের কেউ যদি ঘরছাড়া থাকেন তাহলে তাকে প্রশাসন ঘরে ফিরিয়ে দেবে। কিন্তু একুশের নির্বাচনের পরে নির্বাচন পরবর্তী হিংসার অভিযোগে যদি এদের কারও নাম থাকে তাহলে তার জায়গা হবে জেলে।’