সব্যসাচী মজুমদার
“…যেথা গৃহের প্রাচীর
আপন প্রাঙ্গণ তলে দিবস শর্বরী
বসুধারে রাখে নাই খণ্ড ক্ষুদ্র করি”
দিকে দিকে দিশে দিশে মানচিত্র ভেঙে পড়ছে। যাকে কখনও কখনও স্বাধীনতার লড়াই হিসেবে আমরা চিহ্নিত করছি। কিন্তু, সে সবই তো আসলে মানচিত্র ভাঙার খেলা। তা সে গ্রেটার কোচবিহার হোক কিংবা বালোচ আন্দোলন অথবা ফ্রি স্কটল্যান্ডের আহ্বান। গোটা পৃথিবী জুড়েই মানুষ তার মানচিত্র সম্পর্কে অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে। কেন ? এই কারণ সন্ধান করতে গেলে আমাদের একবার অতিপরিচিত একটি ধারণাকে মনে করে নেওয়া দরকার। এই মানচিত্র ধারণা আসলে কী?
বস্তুত আমরা জানি, আমাদের দেশ বা মানচিত্র সবটাই গড়ে ওঠে রাজনৈতিক স্বার্থে ও বাটোয়ারার মাধ্যমে। একটি নির্দিষ্ট ভূ-খণ্ডের মানুষকে একসঙ্গে রেখে পুঁজির একটি স্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ রূপ নির্মাণই দেশের লক্ষ্য। নইলে তো মানুষ স্বভাব পরিযায়ী। এক ভূ-খণ্ড থেকে আরেক ভূ-খণ্ডে পৌঁছে সভ্যতার শরীরকে নতুন করে তোলাই তার সামাজিক স্বভাব। এ তো আমরা প্রোটো অস্ট্রালদের সময় থেকেই জানি। জানি, তাও ভুলে যাই। ভুলে যাই বলেই তৈরি হয় উগ্র মানচিত্র প্রেম। যে প্রেম জন্ম দেয় যুদ্ধের। এবং মানচিত্র সম্পর্কে অনীহা ও বিচ্ছিন্নতাবাদের।
মানব সমাজের অনতি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জাতীয়তার ধারণা শুরু হয় এই প্রবণতার বিরোধীতা করেই। অর্থাৎ নির্দিষ্ট ভৌগোলিক বৃত্তে চিন্তা ও দর্শনের সীমাবদ্ধতার বিরোধীতা করেই। ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত ‘ন্যাশনালিজম’ প্রবন্ধটিকে যদি এই কথার স্বপক্ষে যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করি, তবে, একইসঙ্গে এ কথাও বলে রাখা দরকার যে, রবীন্দ্রনাথের জাতীয়তাবাদের ধারণার জন্ম কিন্তু বস্তুত পক্ষে বঙ্গভঙ্গের আবহাওয়ায় বিস্তার নিয়েছিল। কিন্তু, কী সেই জাতীয়তাবাদ? রবীন্দ্রনাথের জাতীয়তাবাদ? এ বিষয়ে প্রবেশের আগে কিছু কথা বলে নেওয়ার দরকার।
‘জানি নে তোর ধন রতন
আছে কিনা রাণীর মতন
শুধু জানি মা, আমার অঙ্গ জুড়ায়
তোমার ছায়ায় এসে’
অহৈতুকি প্রেম অর্থাৎ আমি তোমাকে কেন ভালোবাসি জানি না, আমার চাওয়ার নেই তোমার কাছে কিছু, তবুও আমি তোমাকে ভালবাসি— চৈতন্য দেবের এই দর্শন তো মগ্ন করেছিল রবীন্দ্রনাথকেও। সেই মগ্নতার অন্যতম ফসল রবীন্দ্রনাথের জাতীয়তার ধারণা এবং সেখান থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রীতি বোধে উত্তরণ। দেখুন, ‘সার্থক জনম আমার’ রচনাটির শরীরেই যদি আমরা চিন্তা নিবদ্ধ করি, লক্ষ করব, রবীন্দ্রনাথ একবারও নির্দিষ্ট কোনো দেশের ভৌগোলিক বর্ণনা বা স্তুতি করেননি। স্তুতি করেছেন মাতৃভূমির। মানচিত্রহীন মাতৃভূমির। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের, প্রতিটি দেশের মানুষের কথা হয়ে গিয়েছে ঠিক যে কারণে এই রচনাটি। যে কারণে গোরা তার দেশের ধারণাকে খুঁজে পেয়েছে ধাত্রী আনন্দময়ীর ভেতরে,
“মা,তুমিই আমার মা।যে মাকে খুঁজে বেড়াচ্ছিলুম তিনিই আমার ঘরের মধ্যে এসে বসে ছিলেন। তোমার জাত নেই,বিচার নেই,ঘৃণা নেই— শুধু তুমি কল্যাণের প্রতিমা।” রবীন্দ্রনাথের জাতীয়তাবাদের নির্দিষ্ট টপোগ্রাফি নেই, রয়েছে মানুষের প্রতিটি অস্তিত্ব পর্যন্ত বিস্তার।
রাষ্ট্রভেদহীন, অসূয়াহীন মাতৃকা মূর্তিকেই রবীন্দ্রনাথ তাঁর জাতীয়তাবাদী ধারণার কেন্দ্রে স্থাপন করেছিলেন বলেই হয়তো সেই জাতীয়তাবাদী ধারণা ক্রমে বিবর্তিত হয়ে বিশ্ব সম্প্রীতির বোধে উত্তীর্ণ হয়েছে। যেখানে দেবতা হয়ে উঠেছে মানুষ। কিংবা, যেখানে মানুষের ক্রম উত্তরণের প্রবৃত্তি, বিশ্ব – মানব হয়ে ওঠার বাসনা, অথবা, ‘আপন হতে বাহির হয়ে বাইরে দাঁড়া/ বুকের মাঝে বিশ্বলোকের পাবি সাড়া ‘-র উদার আহ্বান ধ্বনিত হয়েছে। এই অন্তর বা গণ্ডি , যার বাইরে আসার কথা বলছেন কবি— আসলে কী? সংকীর্ণতা। যে সংকীর্ণতা পড়শি দেশের নিরাপরাধ শিশুর মৃত্যু ঘটায়, যে অপরাধ কবর থেকে ভ্রুণ তুলে আনার প্ররোচনা দেয়, যে সংকীর্ণতা প্রান্তিক মানুষকে উদ্বাস্তু হতে বাধ্য করে, যে সংকীর্ণতা অন্য মানুষের মৃত্যু দেখে উল্লসিত হওয়ার প্ররোচনা দেয়। যার কবলে পড়ে আমাদের বেঁচে থাকাটাও বিষাক্ত হয়ে গিয়েছে।
দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবের ফলাফল সম্পর্কে সচেতন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বুঝতে পেরেছিলেন ঔপনিবেশিক দেশ ধারণা বা মানচিত্র ধারণা এখন বিগত প্রায়। মানচিত্রের খণ্ডিত রূপ মানুষের নান্দনিক বা অর্থনৈতিক পুঁজির বিকাশে অন্তরায়। আর এই অন্তরায়কে মানুষ, সদা বিবর্তিত, বিনির্মাণকামী মানুষ ভেঙে ফেলবে। মানুষ চাইবে বিশ্বনাগরিক হয়ে উঠতে। যা দু’হাজার পরবর্তী পৃথিবীতে আমরা বুঝতে পারছি। আমাদের মধ্যে গড়ে উঠেছে বিশ্বনাগরিকতার বোধ। তাই ইরানের প্রশ্নে বা ইউক্রেনের প্রসঙ্গে আমরা উদ্বেল হই, দ্বিধাগ্রস্ত হই, তারপর সমস্ত দ্বিধা অতিক্রম করে পক্ষ গ্রহণ করি। আন্তর্জাতিক রাজনীতির সঙ্গে আমাদের জীবনযাপনের প্রতিটি মুহূর্ত এখন জড়িয়ে পড়েছে। এই বিশ্ব নাগরিক হয়ে ওঠার আহ্বান তো আমরা, বাঙালিরা, মধ্যযুগ পরবর্তী সময়ে প্রথম রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যেই ধ্বনিত হতে শুনি।
দেশ বলতে আমাদের যে মানচিত্র প্রেম বা অনুকূল ভূগোলের প্রতি আনুগত্য, রবীন্দ্রনাথ তাকে অতিক্রম করেন অনায়াসেই। আর এই অতিক্রমের একটি মহৎ বীজ সঞ্চিত ছিল যেন ‘ভারততীর্থ’ কবিতায়। ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর উদার বিস্তার আমরা কেবল আর্য -অনার্য-শক-হুণ- ব্রাহ্মণ – অশুচির অ্যাসিমিলেশনের আহ্বানের ভেতরেই শুনতে পাই না, শুনতে পাই ‘মহামানবের’ শব্দ ব্যবহারের ভেতরেও।
‘আজি ভারতের মহামানবের সাগর তীরে’
এই মহামানব কোনো ব্যক্তি মানব তো নয়। আমরা সকলেই জানি—প্রতিটি মানুষের, ঘটমান, ঐতিহাসিক এবং অনৈতিহাসিক প্রতিটি মানুষের অস্তিত্ব দিয়ে নির্মিত এই ‘মহামানব’-এর ধারণা। একটা বিরাট মানব শরীর। যার একমাত্র উপাদান পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ।
আমরা পদার্থবিজ্ঞানের কাছে জেনেছি বিলিয়ার্ড টেবিল থিওরি। স্টিফেন হকিং মহাজাগতিক প্রত্যেকটি কণার সঙ্গে প্রত্যেকটি কণার অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক বুঝিয়েছেন আমাদের। রবীন্দ্রনাথের মানবতা বোধ বা বিশ্ব সম্প্রীতি বোধ এরকম ঘনসংবদ্ধ এক সম্পর্কের কথা মনে হয়। যেখানে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের সঙ্গে প্রতিটি মানুষের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে ওতোপ্রোত। একটিও মানব সত্তা বিঘ্নিত হলে তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে গোটা মানব সভ্যতার ভেতর। একারণেই রবীন্দ্রনাথ কেবল ভারতের সংকট সম্পর্কেই কেবল সচেতন ছিলেন না, ‘সভ্যতার সংকট’ হিসেবে দেখেছিলেন মানচিত্র ব্যতিরেকে মানুষের প্রতিটি স্খলনকে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের রূপ দেখে বলতে বাধ্য হয়েছিলেন,
‘মানুষের সাজে কে যে সাজিয়েছে অসুরে,
আজ দেখি ‘পশু’ বলা গাল দেওয়া পশুরে।’
বুঝতে পেরেছিলেন উগ্র জাতীয়তাবাদ মানুষকে প্রাণীর সাধারণ ধর্ম থেকেও চ্যুত করেছে। বুঝতে পেরেছিলেন সভ্যতার বিষাক্ত নাগিনী ছোবল দিয়েছে ইতিমধ্যে।
কেবল সমস্যা নির্ণয়ের ভেতরেই তো থেমে থাকেন না স্বতঃবিবর্তিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। খোঁজেন উত্তরণকে, মঙ্গলের আলো আর অন্ধকারকে। মানুষ হিসেবে নিজের সঙ্গে নিজের দ্বন্দ্বে অবতীর্ণ বহুমাত্রিক রবীন্দ্রনাথ আমাদের একারণেই সম্ভবত বারবার মানচিত্রহীন পৃথিবীর সুর শুনিয়েছেন,
‘জগৎ জুড়ে উদার সুরে/আনন্দগান বাজে,/সে গান কবে গভীর রবে/বাজিবে হিয়া-মাঝে।/বাতাস জল আকাশ আলো/সবারে কবে বাসিব ভালো,/হৃদয়সভা জুড়িয়া তারা/বসিবে নানা সাজে।’
কেবল কাব্যিক অন্বয়েই নয়, রবীন্দ্রনাথ তাঁর প্রবন্ধেও বারবার আমাদের সচেতন যুক্তি বোধের ভেতরে গেঁথে দিতে চেয়েছিলেন তাঁর বিশ্ব মানবতার অন্বয়। সেক্ষেত্রে আমাদের মনে পড়বে— সমাজ, ভারতবর্ষ, প্রাচীন সাহিত্য, ন্যাশনালিজম, রিলিজিয়ন অফ ম্যান, কালান্তর, সভ্যতার সংকট বা রাশিয়ার চিঠি কিংবা মানুষের ধর্ম প্রভৃতি গ্রন্থের কথা। এবং এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে এভাবে হয়তো বলা যেতে পারে, প্রতিটি ক্ষেত্রেই রবীন্দ্রনাথ আমাদের উগ্র ও সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদকে অনেকাংশে দায়ি করেছেন আমাদের যাবতীয় সর্বনাশের জন্য। এক্ষেত্রে ‘বৃহত্তর ভারত’ অভিভাষণটিকে আমাদের যুক্তির পক্ষে ব্যবহার করা যেতে পারে,
‘দেশ বলতে কেবল তো মাটির দেশ নয়, সে যে মানবচরিত্রের দেশ। দেশের বাহ্য প্রকৃতি আমাদের দেহটা গড়ে বটে, কিন্তু আমাদের মানবচরিত্রের দেশ থেকেই প্রেরণা পেয়ে আমাদের চরিত্র গড়ে ওঠে।’ (বৃহত্তর ভারত : কালান্তর)
এই নিজস্ব, প্রতিটি মানুষের নিজস্ব দেশ ধারণার পক্ষে রবীন্দ্রনাথ কথা বলেছিলেন। সেই ধারণাই তো সবচেয়ে বেশি করে লঙ্ঘিত হয়েছিল সাতচল্লিশের ভাগাভাগির সময়। মানুষের নিজের দেশকে, মাটিকে কেড়ে নিয়ে বাধ্য করা হয়েছিল চাপিয়ে দেওয়া রাজনৈতিক মানচিত্রের মধ্যে নিজেকে মানিয়ে নিতে।
“আমাদের শাস্ত্রে বারবার বলেছে, যিনি নিজের মধ্যে সর্বভূতকে এবং সর্বভূতের মধ্যে নিজেকে জানেন তিনিই সত্যকে জানেন। অর্থাৎ, অহংসীমার মধ্যে আত্মার নিরুদ্ধ অবস্থা আত্মার সত্য অবস্থা নয়। ব্যক্তিগত মানুষের জীবনের সাধনায় এ যেমন একটা বড়ো কথা, নেশ্যনের ঐতিহাসিক সাধনাতেও সেইরকম।”(বৃহত্তর ভারত: কালান্তর)
এই সাধনার কথা , যা রবীন্দ্রনাথ ভেবেছিলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে হয়তো আমরা হারিয়েছিলাম। অন্তত রাজনৈতিক পরিচয় খুঁজে পাওয়ার তাগিদে আমরা বিশ্ব পরিচয়টিকে খুইয়ে ছিলাম সম্ভবত। আমাদের শিল্প চিন্তার ক্ষেত্রেও দেখা যায়— বিংশ শতাব্দীর বাঙালির চেয়ে অনেক বেশি আন্তর্জাতিক ছিলেন উনবিংশ শতাব্দীর বাঙালি। সেসময় যেভাবে আমাদের ‘পঞ্জিকা প্রাচীর’ ভেদ করে ইউরোপ এসেছিল, আমাদের রাজনৈতিক পরিচিতির বেড়াজাল ছিঁড়ে নব্বই দশকে আন্তর্জাতিকতা আবার স্পর্শ করল বটে, কিন্তু, রাজনৈতিক পরিচয়ের গ্রাস থেকে মানুষকে পুরোপুরি মুক্ত করতে পারল না। প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষ যত বেশি করে উদ্বাস্তু শ্রমিকে, অসংগঠিত শ্রমিকে রূপান্তরিত হতে শুরু করল, মানুষের শ্রমের মূল্য ও প্রয়োজন কমতে লাগল, উৎপাদনের কাঁচা মাল হিসেবে ব্যবহৃত মানুষের শ্রম যত অব্যহৃত হতে শুরু করল তৃতীয় এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পর, সংকটের প্ররোচনায় ভারতের মানুষ তত বেশি করে খড়কুটোর মতো প্রত্যক্ষ ও উত্তেজনাকর রাজনৈতিক পরিচয়কেই আঁকড়ে ধরতে শুরু করল। যেমন এখন আমরা আন্তর্জাতিক চিন্তার সংস্পর্শ প্রতি মুহূর্তে পেতে পারি, তেমনই আমরা বন্ধুতার আগে জেনে নিচ্ছি কে কোন দল! দল দেখে বন্ধু নির্বাচন করি আমরা।রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপরেই নির্ভর করছে আমাদের যাবতীয় আত্মীয়তা। আমরা বুঝতে পারিনি অন্য দেশকে অপমান করলে নিজের দেশের দিকেই ফিরে আসে সেই অপমান। আমরা বুঝতে পারিনি ভূখণ্ড ভেদে আসলে মানুষই রয়েছে। যার একটাই সাধারণ পরিচয়— সে মানুষ। তার লাঞ্ছনা আসলে আমারও লাঞ্ছনা বা আসন্ন দুর্ভাগ্যের ইঙ্গিত।
‘কর্তার ভূত’ এখনও চেপে আছে। যায়নি। বিশ্বের ইতিহাসের সঙ্গে, বিবর্তন ও বিনির্মাণের সঙ্গে আমরা যেমন যোগ দিচ্ছি, তেমনই মায়ের পেটের ভ্রুণকেও রক্ষা দিচ্ছি না। কবরে শুইয়ে দিচ্ছি ফুলের মতো শিক্ষার্থীদের। নারী ও শিশুর অবমাননা আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাস। পড়শি দেশের সর্বনাশে, যুদ্ধে বিনোদন খুঁজে পাই। বিষ সম্ভবত এখনও অনেকটা বেশি মাত্রায় রয়ে গেছে। এবং যতদিন বেশি মাত্রায় থাকবে, ততদিন প্রাসঙ্গিক থাকবে রবীন্দ্রনাথের বিশ্ব সম্প্রীতির বোধ। যতদিন না আমরা উগ্র সংকীর্ণতার পরিধি অতিক্রম করে বিশ্ব মানবতা ও ইতিহাসের সঙ্গে সম্পূর্ণ একাত্ম হতে পারব, দেশ নামক রাজনৈতিক মানচিত্রের অন্ধ ক্রিতদাস হয়ে থাকব, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশ্ব বোধ আমাদের তাড়িত করবে, প্রশ্ন করবে এবং আরও একটু মানবতার দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে,
“বিশ্ব সাথে যোগে যেথায় বিহারো/ সেইখানে যোগ তোমার সাথে আমারও…”