কলকাতা, ২৫ সেপ্টেম্বর- বাংলায় পালাবদলের পরে বিধানসভায় গুন্ডাদমন বিল পাশ করিয়েছিল বিজেপির সরকার। এবার সেই গুন্ডাদমন আইনে ছাড়পত্র দিলেন না রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সর্বভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের তরফে দাবি করা হয়েছে, রাজ্যের পাঠানো বিলের খসড়া ফেরত পাঠিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তিনি জানিয়েছেন, ওই বিলের একটি অংশের সঙ্গে ১৯৮৫ সালের এনডিপিএস আইনের সংঘাত তৈরি হচ্ছে। কেন্দ্রের সুপারিশ মেনেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
জুন মাসের ২৯ তারিখ রাজ্য বিধানসভায় পাশ হয় ‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’। যা সংক্ষেপে ‘গুন্ডাদমন বিল’ নামে পরিচিত। বিলের খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রশাসন যদি মনে করে, কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি জননিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন কিংবা কোনও বড়সড় সমাজবিরোধী অপরাধের চক্রান্ত করছেন, তবে অপরাধ ঘটানোর আগেই তাঁকে বিনা বিচারে সর্বোচ্চ ১২ মাস অর্থাৎ ১ বছর পর্যন্ত আটকে রাখা যাবে। সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করলে সরকার নির্ধারিত কমিশন চাইলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণের চেয়েও দ্বিগুণ ‘দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ’ বা জরিমানা চাপাতে পারে।
নতুন আইনে ‘গুন্ডা’ বা ‘সমাজবিরোধী’ শব্দের সংজ্ঞা ও পরিধি অনেকটাই বিস্তৃত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সিন্ডিকেটরাজ, তোলাবাজি এবং গায়ের জোরে সাধারণ মানুষের জমি বা বাড়ি দখল করা, বেআইনি ভাবে নদী থেকে বালি তোলা, অবৈধ খনি কারবারকে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ হিসেবে গণ্য করা হবে। যারাই সাধারণ নাগরিকদের মনে আতঙ্ক তৈরি করে তারাই গুন্ডা। বিধানসভায় পাশ করানোর পর রাজ্য সরকার অবিলম্বে বিলটিকে আইনে পরিণত করতে উদ্যোগী ছিল। তাতেই সম্মতি দিলেন না রাষ্ট্রপতি। বিলটি ফেরত পাঠানোর সময় রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন, “১৯৮৫ সালের এনডিপিএস আইনের সঙ্গে এই আইনের সংঘাত তৈরি হচ্ছে।” রাষ্ট্রপতি বিলটি ফেরত পাঠালেও সেটি সংশোধন করে ফের সম্মতির জন্য পাঠাতে পারে সরকার। এদিন সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, ‘আমরা আইন মেনেই যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেব।’
তবে বিল ফেরত পাঠানোর পরে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারকে খোঁচা দিয়ে লিখেছেন, “ডবল ইঞ্জিন শুধু পোস্টারেই। প্রশাসনের ক্ষেত্রে শুধুই রিভার্স গিয়ার। হোমওয়ার্ক সংশোধন করার জন্য পাঠানো হল।” মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা বলেন, ‘গুন্ডারা ভয় পেয়েছে। তাই পোস্ট করছে।’