অভিষেকের বাসভবনে পুলিশি অভিযান, কারণ ঘিরে জোর জল্পনা

অভিষেকের বাসভবনে কলকাতা পুলিশ

কলকাতা, ২৫ মে– সোমবার সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে আচমকা কলকাতা পুলিশের একটি বিশেষ দল পৌঁছতেই নতুন করে শুরু হল জল্পনা। দিন সাতেক আগেই ‘শান্তিনিকেতন’ নামে পরিচিত অভিষেকের বাড়ির বেআইনি অংশ ভাঙার বিষয়ে একটি নোটিস দেয় কলকাতা পুরসভা। নোটিসে যে সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল আজই ছিল তার শেষ দিন। আর সেদিনই তৃণমূল সাংসদের বাড়িতে এই পুলিশি হানাকে কেন্দ্র করে এই চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

            সাংসদের বাড়িতে পুলিশের যে দলটি যায় তাদের কয়েকজনের পরনে ছিল সাধারণ পোশাক। আবার কয়েকজন ছিলেন পুলিশের সাদা পোশাকে। বাড়ির ভেতরে কিছুটা সময় কাটিয়ে এই পুলিশের দলটি একটি মণিটর নিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। সেটি কোথায় নিয়ে যাওয়া হল এখনও স্পষ্ট নয়। ওই পুলিশকর্মীরা অভিষেকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরে একটি গাড়ি সেখানকার গ্যারেজ থেকে বেরিয়ে যায়। সেই গাড়িটি লিপ্‌‌স অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার নামে নথিভুক্ত। শান্তিনিকেতন বাড়িটিও ওই সংস্থার নামেই পুরসভায় নথিভুক্ত রয়েছে। কেন হঠাৎ তৃণমূল সাংসদের বাড়িতে পুলিশ গেল, তা নিয়ে ধন্দ রয়েছে। কেন এই পুলিশি অভিযান তা নিয়ে পুলিশের তরফেও কেউ কোনও কথা বলতে চাননি।

            প্রসঙ্গত, গতকালই কলকাতা পুরসভার নোটিসের জবাবের জন্য কলকাতা পুরসভার কাছে সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজই অভিষেকের আবেদনে সাড়া দিয়ে দশ দিনের সময়সীমা বাড়াল কলকাতা পুরসভা। এই আবহেই সোমবার বিকেলে অভিষেকের হরিশ মুখার্জি ঠিকানায় পৌঁছে যায় কলকাতা পুলিশের একটি টিম। একটি কালো গাড়িতে এসে বাড়িতে ঢুকে যান দুই আধিকারিক। বেআইনি নির্মাণ ঘিরে বিতর্কের মাঝেই শান্তিনিকেতনে পুলিশ আধিকারিকদের সারপ্রাইজ ভিজিট নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়।

            এর আগেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পুলিশ গিয়েছিল। তখন তাঁর বাড়ি থেকে স্ক্যানার যন্ত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। জানা গিয়েছিল, ওই স্ক্যানারগুলি সরকারি সম্পত্তি হওয়ায় সেগুলি ফিরিয়ে নেওয়া হয়। নিরাপত্তার কারণে পুলিশ প্রশাসনের তরফে ওই যন্ত্র বসানো হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। সূত্রের খবর, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস কোম্পানির নামেই রেজিস্টার্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ মুখার্জি রোডের শান্তিনিকেতন। তৃণমূল শাসনকালে থাকাকালীনই একাধিক দুর্নীতির তদন্তে এই কোম্পানির নাম বারবার উঠে এসেছে বিতর্কের কেন্দ্রে। গত সোমবারই অভিষেকের দুটি ঠিকানা কালীঘাট রোড, হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে নোটিস যায় কলকাতা পুরসভার। বাড়তি কোনও নির্মাণ হলে কি পুরসভার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল? সেই বিষয় জানতে চেয়েই নোটিস গিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কাছে।শান্তিনিকেতনের বেআইনি অংশ ভাঙারও নির্দেশ দেয় কলকাতা পুরসভা। নজরে অভিষেকের ১৭ সম্পত্তিও। সেই আবহে কলকাতা পুলিশের এই হানা নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।    

Sumit Chakraborty: