রাহুল শীল
পূর্ণিমা
যে কথা ছাপা ছিল গোপন দরোজায়
ফিরে এসে দেখি লাল মেঘের মতো ভ্রম,
তুমি চেয়ে আছ না দেখার ভান করে
পূর্ণিমার ঘুম ডুবে গেছে মনখারাপে।
এত অশ্রুর অশ্লীলতা গড়ে গেছে
উঁচু উঁচু বিষাদ ভবন।
মানুষ কত একা, একথা জেনেও
থেকেও না থাকার ভান করে
প্রতিদিন যে প্রতিবেশী,
দূরে রেখো তোমার সঞ্চিত আয়ুক্ষয়!
প্রতিমা
বাতাস ভারী হলে
চোখে লেগে যায় স্মৃতি,
বিকল্প বিকাল খোঁজে কেউ,
সন্ধান করে আশ্চর্য আশ্রয়!
যাবতীয় দুঃখের প্রতিমা গড়ে যারা
পুষ্পের খোঁজে নিখোঁজ হয়ে যায়,
তাদেরকে ভাবি নিঃশর্ত কবি প্রতীক।
ছক
বিরহে ছেয়ে আছ
ঘন বনের রাত্রির মতো,
দু’চোখে অশ্রুভার নিয়ে বেঁচে আছি আমি।
পূর্ব-পরিকল্পিত সমস্ত জ্যোৎস্না
সরে যাচ্ছে দেখো
আমাদের মেঘলা ঋতুতে।
প্রণয়-গ্রথিত আশ্চর্য ধ্বনি
যারা গেয়েছে এতদিন,
তাদেরও কি জন্মছক বিরহসূচক!
করতল
চোখের উঠোন ভরে গেছে
তোমার অপূর্ণ স্বপ্নদৃশ্য দেখে,
বসন্তস্নান শেষে হাত মুছো তবে,
করতলে অঙ্কিত যে পূর্ণতা,
তা কি ভুলে গেছে দৈব!
নাকি বিকালের নরম নিঃশব্দের ঠোঁটে
আটকে গেছে আমাদের সন্ধ্যাতারা!!
আলেয়া
এখনও মাথায় আসে না
ঘোড়ার মতো লাফানো দুঃখের শেষ কোথায়,
শুষ্ক ঠোঁটে এখনও বলতে পারো
বিরহের সারেগামা কতদিন গাইব।
ধূলিময় রাত্রি জড়ো করে
যেসব নিঃশব্দ কণা,
মিশে আছে তোমার পূর্ণিমা।
আশ্চর্য হয়ে এসেছ
যে আলো নিয়ে,
এরই নাম প্রণয়-গৃহীত আলেয়া!