গণেশ দেবরায়
এখন আর আমি বন্ধু বান্ধবদের সাথে
খুব একটা ঘেঁষতে চাই না!
বন্ধুরা কেউ ডাক্তার কেউ ইঞ্জিনিয়ার
কেউ ব্যারিস্টার কেউ বিজনেসম্যান
কেউ বা অফিসার কেউ আবার নেতা
তারা দু’চারটে দোকান কেনে সকাল সন্ধ্যা,
আমি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি আর কবিতা লিখি।
রাস্তায় দেখা হলে আড় চোখে তাকাই —
না, কেউ আমাকে চিনতে চায় না
পথের অচেনা পথিকের মতো পাশ কেটে যায়
আমি এখন মুক্ত বিহঙ্গের মতো ঘুরপাক খাই।
ছেলেবেলায় পড়তাম বাড়ির পাশের স্কুলে কলেজে
বাবা বলতেন, ‘মন দিয়ে পড় — আমার টাকা কম
তোকে ডিগ্রি কিনে দিতে পারবো না,
তুই একা না অন্য ভাই বোনদের কথাও ভাবতে হবে।’
বাবা ঠিক বলতেন, কিন্তু সবার কথা ভাবার সময় পাননি!
তারপর যখন আকাশে ঘরে বাইরে অনেক খুঁজেও
একটা সরকারি দলের মূল্যবান চাকরি পাইনি
তখন থেকেই হাওয়া খাই রাত দিন একা একা।
এখন আমি বন্ধু বান্ধবদের থেকে দূরে থাকি
কখনো কখনো শুকনো কবিতা আর গল্প
আমায় সঙ্গ দেয়, ওদের খিদে নেই, রোগ নেই
ভালো মন্দের ভাবনা নেই, তবু ভয় একটাই —
একদিন স্বার্থপর বন্ধুদের মতো পাশ কেটে যাবে
শুধু প্রয়োজনটা সম্পূর্ণ ফুরিয়ে গেলে, ওরাও হয়তো।