তে-রাত্রে তিন বোতল কারণবারির সঙ্গে পাঁচ রকম মাছ দিয়ে হয় দেবীর পুজো

সন্দীপ বসু- সাধক রামানন্দ প্রতিষ্ঠিত মা সিদ্ধেশ্বরীর পুজো আজও প্রাচীন রীতি মেনেই হয় দাঁইহাটের বেড়াতে। ভাতৃদ্বিতীয়ার ফোঁটা নিয়েই মা সিদ্ধেশ্বরীর বিসর্জন হয়। পুজোয় কারণবারি ছাড়াও ইলিশ, পোস্ত, মাগুর, পোনা ও শোল মাছের ভোগ নিবেদন করা হয়। এমনকী চালভাজা, নাড়ুও দেওয়া হয়। সাড়ে তিনশো বছরের বেশি সময় ধরে মা সিদ্ধেশ্বরী পূজিত হয়ে আসছেন।
সাধক রামানন্দের পূর্বাশ্রম ছিল পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার মাটিয়ারিতে। দাঁইহাটে গঙ্গার অপর পাড়েই মাটিয়ারি। রামানন্দ সাধনভজনের জন্য নিরিবিলি জায়গা খুঁজছিলেন। নির্জন জায়গা হিসাবে বেড়াকেই পছন্দ করেছিলেন। এখানে সাধক প্রতিষ্ঠা করেন পঞ্চমুণ্ডির আসন। রামানন্দের পর থেকে তাঁর অনুরাগী বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার এই পুজো আজও চালিয়ে আসছেন।
বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের সদস্য তথা সেবাইত কল্যাণী জানালেন, প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের আগে রামানন্দ নামে এক সাধক এই দক্ষিণাকালীর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কার্তিকী অমাবস্যায় পুজো হয় সিদ্ধেশ্বরী মাতার। ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার ফোঁটা নিয়েই মায়ের বিসর্জন হয়। সবার আগে মাকে ফোঁটা না দিলে আজও দাঁইহাটের কোনও বাড়িতে ভ্রাতৃদ্বিতীয়া হয় না।
এখানে সিদ্ধেশ্বরী মায়ের পুজোর অনেক নিয়ম রয়েছে। মা সিদ্ধেশ্বরী দেবীর পুজোয় তিন দিনে তিন বোতল কারণবারি দিতে হয়। কারণবারি দিয়ে মায়ের চোখ, মুখ ধুইয়ে দিতে হয়। এছাড়া দেবীকে ইলিশ মাছের তেলঝাল করে দিতে হয়। মাগুর ও শোল মাছের ঝোল, পোনা মাছ ভাজা, আলুভাজা দিতে হয়। তাছাড়া ঝিঙে, আলু পোস্ত, টমেটো পোস্ত দিতে হয়। তাছাড়া ন’পোয়া চাল ভাজা দিতে হয়। নতুন মাটির খোলায় স্নান সেরে ভাজতে হয় চার ভাজা। আজও কালীপুজোর দিন সকাল থেকেই অজস্র বাড়ি থেকে মা সিদ্ধেশ্বরীর জন্য আসে ন’পোয়া চালভাজা আর নাড়ু।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সিদ্ধেশ্বরী মাতা জাগ্রত দেবী। অনেকেই মানত করেন এখানে। মনোবাসনা পূর্ণ হলে পরের বছর পুজো দেন। অন্যদিকে কেতুগ্রামের আনখোনা গ্রামে বর্ধমানের মহারাজা উদয়চাঁদ মহতাবের প্রতিষ্ঠা করা দক্ষিণাকালী আজও মহাসমারোহেই পূজিত হয়।
গ্রাম্যদেবী হিসাবেই দক্ষিণাকালীকে মানেন বাসিন্দারা। তাই তো গ্রামে আর কোনও কালীমূর্তি পুজো হয় না। মহারাজা উদয়চাঁদ মহতাবের ঠিক করা নিয়ম অনুযায়ী এখনও গ্রামের চার ‘মোড়ল’-এর বংশধররা পুজো পরিচালনায় অংশ নেন। তবে দক্ষিণাকালী আনখোনা গ্রামে এখন সর্বজনীন কালীপুজোয় পরিণত হয়েছে।

Sumit Chakraborty: