কলকাতা অফিস, ২৭ মে – বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে অণ্ণপূর্ণা যোজনার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সব মহিলাদের নতুন করে এই প্রকল্পের জন্য ফর্ম পূরণ করতে হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পান, তাদেরও ফর্মপূরণ করতে হবে। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন নারী ও শিশুকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মুখ্যমন্ত্রী জানান, মুখ্যসচিব, অর্থসচিবের নেতৃত্বে জেলাশাসক, বিডিও, পুর কমিশনাররাও যুক্ত থাকবেন এই কাজে। যারা আধারের কাজ করেন, তারাও যুক্ত থাকবেন অন্নপূর্ণা যোজনার কাজে।
মুখ্যমন্ত্রী আজ জানিয়েছেন, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পে লক্ষ লক্ষ ‘বেনোজল’ মিশে রয়েছে। তা বাদ দিয়ে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের বিশুদ্ধ তালিকা তৈরি করা সরকারের লক্ষ্য। এই ফর্মের মাধ্যমে রাজ্যবাসীর পরিবার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যও সরকার সংগ্রহ করছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ফর্ম পূরণের জন্য তাড়াহুড়ো করার কোনও প্রয়োজন নেই। তিন মাস এই প্রক্রিয়া চলবে। যত দিন না অন্নপূর্ণা যোজনা শুরু হচ্ছে, তত দিন ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ চলবে। যারা নতুন প্রকল্পের অধীনে ঢুকে যাবেন, তাদের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ বন্ধ হয়ে যাবে। ২ জুনের মধ্যে যারা এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করিয়ে নিতে পারবেন, তারা জুন মাস থেকেই টাকা পাবেন।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এক দিনে সকলকে ফর্ম পূরণ করতে হবে, লাইনে দাঁড়াতে হবে, হুড়োহুড়ি করতে হবে, সব কাজ ফেলে আজকেই না করলে বঞ্চিত হবেন—এমন নয়। এটি একটি স্থায়ী সুবিধা সরকার দিচ্ছে আপনাদের, তার নিজস্ব কোষাগারের অর্থে। তাই আপনাদের সহযোগিতা এবং ধৈর্য প্রয়োজন। পুরো প্রক্রিয়ায় এই ব্যবস্থার সঙ্গে আপনারা থাকবেন। আমরা আপাতত ১ জুন থেকে ৯০ দিন এই প্রক্রিয়াটি চালাব।’ অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে কিছু বিশদ তথ্য চাওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এর মাধ্যমে নাগরিকদের পরিবার সংক্রান্ত তথ্যও সরকার সংগ্রহ করতে চায়। যাতে পরবর্তী সময়ে সরকারি অন্যান্য প্রকল্পে এই তথ্য ব্যবহার করা যায়। শুভেন্দুর কথায়, ‘এই কাজের পরিধি ব্যাপক। মুখ্যসচিব এবং অর্থসচিবের নেতৃত্বে আধিকারিকেরা এর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। যারা আধারের কাজ করেন, ভোটার তালিকা তৈরির কাজে যারা যুক্ত, তারাও এই কাজ করবেন।’
পূর্বতন সরকারে সময়ে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে কীভাবে বেনোজল ঢুকেছে তার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক ধারণা ছিল যে, লক্ষ্মীর ভান্ডার-এর প্রাপকদের তালিকাটি যাচাই করা আছে। কিন্তু সে বিষয়ে আমরা ভূরি ভূরি অভিযোগ পেয়েছি। ভোটার তালিকা থেকে স্থায়ী ভাবে নাম বাদ গিয়েছে এবং ট্রাইবুনালে আবেদন করেননি, এমন প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ লক্ষ্মীর ভান্ডার-এর টাকা পাচ্ছেন।’ এসব নাম বাদ দেওয়ার প্রয়োজনেই সকলকে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ করতে বলেছেন শুভেন্দু।