বারুইপুর, ৭ জুলাই- বারুইপুরে কিশোরীকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় কাউকে রেয়াত করা হবে না বলে মঙ্গলবার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কী কী ঘটেছে, তদন্তের গতিপ্রকৃতি, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘আমাদের লোকের যদি ওই সময়ের মধ্যে এক শতাংশও শিথিলতা থাকে, তবে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।’ অর্থাৎ পুলিশ প্রশাসনের কোনও শিথিলতাও যে বরদাস্ত করা হবে না তাও বুঝিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, বারুইপুরে যে সন্দেহভাজনকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে তিনি নির্দোষ। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এই তথ্যই সামনে এসেছে। এই খুনেরও বিচার হবে। দোষীদের কাউকে ছাড়া হবে না।
মঙ্গলবার বারুইপুরে পুলিশ সুপারের অফিসে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি বারুইপুরের ওই কিশোরীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। গণপিটুনিতে মৃত যুবকের পরিবারের ৩ সদস্যের সঙ্গেও দেখা করেন শুভেন্দু। পাশাপাশি পুলিশ সুপার, ডিজিপি সহ পুলিশের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। নাবালিকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এলাকার সাংসদ সায়নী ঘোষ ও তৃণমূল বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। বারুইপুরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয় তার পেছনে রাজনৈতিক উস্কানি রয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নাম না করে বাম-তৃণমূলকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘যারা নির্বাচনে সাধারণ মানুষের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন, কেউ ক্ষমতা হারিয়েছেন আবার কেউ শূন্য থেকে এক হয়েছেন—এমন কিছু দেশবিরোধী শক্তি পিছন থেকে উস্কানি দিয়েছে। এসটিএফ এদের কল রেকর্ড-সহ যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করেছে। এদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।’ পুলিশি রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মব লিঞ্চিং বা গণপিটুনি দিয়ে যাকে পিটিয়ে মারা হয়েছে, সেই ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল সম্পূর্ণ নির্দোষ। এটি আমার কথা নয়, পুলিশ আমাকে প্রাথমিক তদন্তের পর যা জানিয়েছে সেটাই বলছি। আমি ওঁর শোকার্ত পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেছি।’
মুখ্যমন্ত্রী আজ জানান, তিনি এক সপ্তাহ পরে ফের বারুইপুরে আসবেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তার মন্তব্য, ‘আমি এক সপ্তাহ পরে এখানে আবার আসব। সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে তা আপনারা দেখতে পাবেন।’ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নির্যাতিতার পরিবারের দাবি মেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বারুইপুরের সূর্যপুরে অবিলম্বে একটি নতুন পুলিশ আউটপোস্ট গঠন করার জন্য ডিজি এবং হোম সেক্রেটারিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থায়ী ভবন তৈরি হওয়ার আগে প্রয়োজনে কোনও ভাড়া বাড়ি নিয়ে হলেও দ্রুত এই আউটপোস্টের কাজ চালু করতে বলা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী যখন দ্বিতীয়বার ভিকটিমদের সঙ্গে দেখা করতে আসবেন, তখনই এই সূর্যপুর আউটপোস্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি এদিন মুখ্যমন্ত্রী আলাদাভাবে সাংসদ সায়নী ঘোষ এবং বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেন।
পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশ্যেও আজ কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, যে কোনও মূল্যে এই ধরনের অপরাধ রোধ করতে হবে। প্রতিটি থানাকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন, জাতীয় মহিলা কমিশন এবং জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের নির্দেশিকা, পকসো আইন এবং হিউম্যান রাইটস কমিশনের গাইডলাইন মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। কড়া ভাষায় তিনি বলেন, ‘তদন্তে যদি দেখা যায় ওই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুলিশের কোনও আধিকারিকের ১ শতাংশও গাফিলতি বা শিথিলতা ছিল, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর আরজি কর মামলায় তিন জন শীর্ষ আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করেছি। আমার বার্তা খুব পরিষ্কার। নির্যাতিতার দশ জন সদস্যের পরিবার যে আস্থা আমাদের ওপর রেখেছেন, তার মর্যাদা রক্ষা করা আমার কর্তব্য।’