ওয়ার্ড বিন্যাস মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরভোট নয়, নির্দেশ আদালতের

কলকাতা, ৬ নভেম্বর- ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই কলকাতা, হাওড়া সহ সাত পুরসভায় ভোটপ্রক্রিয়া শেষ করার বিষয়ে আগেই বলা হয়েছিল রাজ্য সরকারের তরফে। কিন্তু ওয়ার্ড বিন্যাস মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিজ্ঞপ্তিতে স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট। এদিন বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চে সাফ জানিয়েছে, ওয়ার্ড বিন্যাস মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরসভার নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারবে না রাজ্য নির্বাচন কমিশন। আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও এতে নাগরিক সমস্যা বাড়বে বলেই মত সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের। 

            পালাবদলের পরই পুরসভার আসন পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। কলকাতার পুরসভার ওয়ার্ড ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। যা নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি করেছিল বিরোধী দলগুলো। পরবর্তীকালে তার জল গড়ায় হাই কোর্টে। পুজোর ছুটির মধ্যে মামলা দায়ের হওয়ায় সেটি অবকাশকালীন বেঞ্চে অন্তর্ভুক্ত হয়। শুক্রবার বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের বেঞ্চে ছিল সেই মামলার রায় ঘোষণা। আদালত জানিয়ে দিল, পুনর্বিন্যাস মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরভোট করা যাবে না।

            একাধিক পুরসভা ও পুরনিগমে ভোট হয়নি দীর্ঘদিন। পালাবদলের পর একাধিক পুরবোর্ড ভেঙে গিয়েছে, সেখানে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন প্রশাসকরা। ফলে দ্রুত ভোট করাতে চাইছিল সরকার। নাহলে বিঘ্নিত হচ্ছে নাগরিক পরিষেবা। শোনা যাচ্ছিল, নভেম্বরের শেষের দিকে হতে পারে নির্বাচন। কিন্তু এদিনে হাই কোর্টের নির্দেশের ফলে পুরভোটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিয়তায়। এপ্রসঙ্গে বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “কোর্টের নির্দেশের পর তো আমাদের কিছু বলার থাকতে পারে না। তবে ভোট না হলে আমজনতা সমস্যায় পড়ছে। ফলে যত দ্রুত সম্ভব ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস মামলার নিষ্পত্তি করা হোক।”

Sumit Chakraborty: