কলকাতা, ২৯ সেপ্টেম্বর– জঙ্গি সন্দেহে এবার বাংলা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করল এনআইএ। বাংলার মাটিতে বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন অর্থাৎ জেএমবির শাখা সংগঠন ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলা’-র ঘাঁটি! আল কায়দার মতাদর্শে বেড়ে ওঠা এই জঙ্গি সংগঠনের জাল ছড়িয়ে অসম এবং কেরলেও! এই সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে এনআইএ।
আসমে প্রথম এই সংক্রান্ত একটি মামলা রুজু হয়। সেই মামলার সূত্রেই মঙ্গলবার ভোর থেকে বাংলা, আসাম এবং কেরলে একযোগে তল্লাশি শুরু করে এনআইএ। ডায়মন্ড হারবার, বর্ধমান এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারিতে শুরু হয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযান। জানা যায়, বংশীহারিতে মুজিবর রহমান নামে এক যুবকের বাড়িতে পৌঁছান আধিকারিকরা। যদিও ওই যুবকের খোঁজ পাননি আধিকারিকরা। ইতিমধ্যে তাঁর খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মুজিবুর সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনলাইনে কোচিং নিতেন। সেই আড়ালেই কি চলত মগজধোলাই? খতিয়ে দেখছে এনআইএ।
শুধু উত্তরে নয়, বর্ধমানের মঙ্গলকোটের পালিশগ্রামের একটি মসজিদেও এদিন সাতসকালে পৌঁছে যান এনআইএ আধিকারিকরা। সেখানকার ইমামকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলা’র সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে ধৃতের। এই সংক্রান্ত প্রাথমিক প্রমাণ হাতে পাওয়ার পরেই ওই ইমামকে এনআইএ গ্রেপ্তার করে বলে খবর। বজবজ থেকে গ্রেপ্তার করা জুম্মান শেখ বলে আরও এক যুবককে। ধৃত এই যুবক পেশায় দর্জি। এনআইএ সূত্রে খবর, জুম্মানকে জেরা করেই নাকি শাহরুল বলে পেশায় এক অ্যাপ চালকের খোঁজ পান আধিকারিকরা। জুম্মানের পাশের গ্রাম বলরামপুরে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন শাহরুল। তবে এদিন কুলপি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এক আত্মীয়ের বাড়িতে ঘাঁটি তৈরি করে থাকছিলেন ধৃত শাহরুল। ইতিমধ্যে ধৃতদের কাছ থেকে মোবাইল-সহ বেশ কিছু নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।