ভবানীপুরের ভোটের ফলকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ মমতা

কলকাতা, ১৬ জুন- একুশের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হারের পরে সেই ফলকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরের ভোটের ফলকে চ্যালেঞ্জ করে ফের আদালতের দ্বারস্থ হলেন মমতা।

            মঙ্গলবার দুপুরে আচমকাই কলকাতা হাইকোর্টে পৌঁছে যান মমতা। যা দেখে অবাক হয়ে যান অনেকেই। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জয়কে চ্যালেঞ্জ করে হলফনামা দাখিল করেন তিনি। পরে মমতার আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, ভবানীপুর নিয়ে ইলেকশন পিটিশন করেছেন তিনি। জানা গিয়েছে, ওই সংক্রান্ত বিষয়েই হলফনামা দাখিল করেছেন। এদিন তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে ছিলেন কুণাল ঘোষ ও দোলা সেনও। আদালতে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে ফের গাড়িতে উঠে হাই কোর্ট চত্বর থেকে বেরিয়ে যান তিনি।

            এর আগে গত ১৪ মে হাই কোর্টে গিয়েছিলেন মমতা। ভোট-পরবর্তী অশান্তির মামলায় সওয়াল করতে গিয়েছিলেন তিনি। সেই বার আইনজীবীদের একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে। এজলাস থেকে মমতা বেরোনোর পর তাকে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান উঠেছিল। ওই ঘটনার প্রায় এক মাস পরে, ১৬ জুন ফের হাই কোর্টে হাজির হলেন মমতা।

            ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে দেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করেই আদালতের দ্বারস্থ হলেন মমতা। পাশাপাশি রাজারহাট নিউটাউন বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায়ও নির্বাচনী ফলকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পরপর দু’বার ভোটের ফলে পরাজিত হয়েও হার মানতে নারাজ মমতা। দুটি ক্ষেত্রেই বিরোধী একজনই, সেই শুভেন্দু অধিকারী। একুশের বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামের ভোটে জয়ী হয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হয়েছিলেন শুভেন্দু। এবার মাস্টারস্ট্রোক দিয়ে নন্দীগ্রামের সঙ্গে ভবানীপুরেও ব্যাপক ব্যবধানে জয়ের পরেও ভোটের ফলে কারচুপির অভিযোগ তোলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। আবার মমতার এই পদক্ষেপকে কটাক্ষ, ‘নন্দীগ্রামে হারার পরেও তিনি একইভাবে আদালতে গিয়েছিলেন। এবার পুরো দলটা (তৃণমূল) সাফ হয়ে যাওয়ার পর আবার আদালতে গেছেন। আমি মনে করি, ওঁর এই যে ‘ভ্রান্তিবিলাস’, সেটা এবার চিরতরে দূর হবে। উনি একদিন ‘সততার প্রতীক’ হিসেবে বাংলার রাজনীতিতে এসেছিলেন, আর আজ ‘দুর্নীতির প্রতীক’ হিসেবে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়েছেন।’

Sumit Chakraborty: