কলকাতা, ২৩ জুন- ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পরেই ভেঙে গিয়েছে তৃণমূলের পরিষদীয় দল। বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৈরি হয়েছে তৃণমূলেরই বিদ্রোহী শিবির। সোমবার নিউটাউনের এক হোটেলে যথারীতি বিশেষ সম্মেলন ডেকে জাতীয় কর্মসমিতি থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দিয়েছে ঋতব্রত শিবির। সেই বৈঠকের পরে তড়িঘড়ি সোমবার রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে তৃণমূলের চেয়ারপার্সন দাবি করে জাতীয় কর্মসমিতির তালিকা জমা দিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনে। মঙ্গলবার পাল্টা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে যাচ্ছেন ঋতব্রতরা।
‘আসল’ তৃণমূল শিবিরে যোগ দেওয়ার কারণে সোমবার রাতেই ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষের মতো একগুচ্ছ নেতাকে বহিষ্কার করেছে কালীঘাট তৃণমূল। সোমবার রাতে ফিরহাদ, অরূপ-সহ একগুচ্ছ নেতাকে শোকজ করা হয়েছিল। সেই শোকজের উত্তর পাওয়ার আগেই কালবিলম্ব না করে তাদের বহিষ্কার করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, অরূপ রায়, জাভেদ খান, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র, সাবিনা ইয়াসমিন, স্নেহাশিস চক্রবর্তীদের বহিষ্কার করা হয়েছে। ফিরহাদরা ইতিমধ্যেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আসল’ তৃণমূল শিবিরে যোগ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ‘আসল’ তৃণমূলের কমিটিতেও অনেকেই রয়েছেন।
তাদের সঙ্গে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসরা আছেন বলে আগেই দাবি করেন ঋতব্রত। আসল তৃণমূলের বিশেষ অধিবেশনে ঋতব্রতর পাশেই দেখা যায় অরূপ রায়কে। মঞ্চে ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী, সাবিনা ইয়াসমিনরা। এরপর রাতেই কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ ফিরহাদ-অরূপ-সহ একগুচ্ছ নেতাকে শোকজ করা হয়। আজ, মঙ্গলবার দুপুরেই কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ তাদের বহিষ্কার করা হয়। গত ৫ জুন তৃণমূলের বৈঠকে জাতীয় কর্মসমিতিতে রদবদল করা হয়। তার পরে দেখা যায় অনেকে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। গত সপ্তাহে ফের তালিকা পরিমার্জন করে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসদের নাম বাদ দেন মমতা। যুক্ত করেন রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকের নাম। তার পর সেই তালিকা পাঠানো হয় কমিশনে। এবার সিইও দপ্তরে যাচ্ছেন ঋতব্রতরা।