তারাতলায় গোডাউনের ছাদ ভেঙে ভয়াবহ বিপর্যয়, কন্ট্রোল রুম খুলল নবান্ন

কলকাতা, ২৪ জুন- শহর কলকাতায় এবার বড়সড় বিপর্যয়। তিনতলার ছাদের ঢালাইয়ের সময় তারাতলায় ব্রেসব্রিজে নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদ ভেঙে পড়ল। আর তাতেই আটকে পড়লেন কারখানার বহু শ্রমিক। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ছুটে আসে পুলিশ। আসে সেনা, দমকল থেকে শুরু করে এনডিআরএফ। এখনও পর্যন্ত ১৮ জন শ্রমিককে উদ্ধার করে তাদের এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আচমকা ভেতরে আটকে পড়ে শ্রমিকরা অনেকেই আর্তনাদ শুরু করেন। তবে কত শ্রমিক আটকে রয়েছেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায় বিধানসভায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, এই ঘটনায় যারা দোষী তাদের কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে। কাউকে রেয়াত করা হবে না।

            দুর্ঘটনার খবর পেয়েই নবান্ন থেকে সরাসরি দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। স্থানীয় সূত্রে দাবি, সকাল থেকেই দুলছিল নির্মীয়মাণ ওই কাঠামো। শ্রমিকেরা তা পরখ করতে গিয়েছিলেন। তার পরেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে লোহার বিম-সহ প্রায় পাঁচ তলা উঁচু ওই কাঠামো। কংক্রিটের স্তূপের নীচে চাপা পড়ে যান শ্রমিকেরা। নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনও গলদ ছিল কিনা সেটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারাতলায় কয়েক হাজার বর্গফুট বিস্তৃত এই জমির মালিকানা রয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষের। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, মুন্সিগঞ্জের সংস্থা বেহরা ব্রাদার্স বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জমিটি ৩০ বছরের জন্য লিজ় নিয়েছিল। তারা অয়ন ট্রেডার্স নামের আর একটি সংস্থাকে গুদামটি তৈরির বরাত দেয়। তারাই গত দেড় বছর ধরে গুদামে নির্মাণকাজ চালাচ্ছিল।

            রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, ‘দমকল, পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী পৌঁছে গিয়েছে। সেনা নামানো হয়েছে। আমাদের প্রথম লক্ষ্য প্রাণগুলোকে বাঁচানো। দ্রুত গতিতে উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়েছে।’ পরিস্থিতি সামল দিতে নবান্নে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। বিধায়ক রাকেশ সিংয়ের অভিযোগ, পূর্বতন তৃণমূলের আমলে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে এই গোডাউনটি বানানো হচ্ছিল। তারই ফল ভোগ করতে হচ্ছে। ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন এই বিধায়ক। স্থানীয়দেরও অভিযোগ, বেআইনিভাবে গুদামটি তৈরি করা হচ্ছিল। কাটমানি নিয়ে এমন লোককে গোডাউন তৈরির কাজ দেওয়া হয়েছিল, যার এই কাজের কোনও অভিজ্ঞতাই নেই। পাশাপাশি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। যার জেরে এই ভয়ংকর পরিস্থিতি।        

Sumit Chakraborty: