অনলাইন ডেস্ক, কলকাতা: কেনিয়ার রাজধানী Nairobi-র প্রধান বিমানবন্দর Jomo Kenyatta International Airport-এ লাগেজ তল্লাশির সময় দুই হাজারের বেশি জীবন্ত পিঁপড়া পাচারের অভিযোগে এক চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্তের নাম Zhang Kequn (২৭)। তিনি মঙ্গলবার দেশ ছাড়ার চেষ্টা করার সময় বিমানবন্দরে ধরা পড়েন।
কেনিয়ার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংস্থা Kenya Wildlife Service জানিয়েছে, অভিযুক্তের লাগেজ থেকে মোট ২,২৩৮টি জীবন্ত পিঁপড়া উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলির বেশিরভাগই ছিল রানি পিঁপড়া (queen ants), যেগুলি নতুন পিঁপড়ার উপনিবেশ তৈরি করতে সক্ষম। উদ্ধার হওয়া পিঁপড়াগুলিকে ছোট ছোট টেস্ট টিউব ও বিশেষভাবে প্রস্তুত করা পাত্রে রাখা ছিল যাতে দীর্ঘ সময় জীবিত রাখা যায় এবং সহজে পরিবহণ করা যায়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, পিঁপড়াগুলি মূলত পূর্ব আফ্রিকার বড় আকারের একটি প্রজাতি— Messor cephalotes। এই প্রজাতির রানি পিঁপড়ার আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা রয়েছে, কারণ সংগ্রাহকরা এগুলি ব্যবহার করে কৃত্রিম কাচের বাসস্থানে (formicarium) পুরো পিঁপড়ার উপনিবেশ গড়ে তোলেন।
কর্তৃপক্ষের মতে, এ ধরনের পাচার বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য চোরাচালানের নতুন প্রবণতা। সাম্প্রতিক সময়ে কেনিয়ায় পোকামাকড়, বিশেষত বিরল প্রজাতির পিঁপড়া পাচারের ঘটনা বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংগ্রাহক ও অনলাইন বাজারকে লক্ষ্য করে পাচারকারীরা ছোট আকারের জীবজন্তু পাচারের চেষ্টা করছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
Kenya Wildlife Service-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি শুধু সাধারণ পাচার নয়, বরং এটি জীববৈচিত্র্য লুণ্ঠন বা “বায়োপাইরেসি”-র উদাহরণ। কারণ এই ধরনের প্রজাতি স্থানীয় পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে—মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, বীজ ছড়ানো এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় তাদের ভূমিকা রয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে কেনিয়ার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এর পেছনে একটি আন্তর্জাতিক পাচার চক্র জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তার যোগাযোগের নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
কেনিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যপ্রাণী পাচারের বিরুদ্ধে তারা কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং বড় প্রাণীর পাশাপাশি ছোট পোকামাকড় পাচারও এখন সমান গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্ত দোষী প্রমাণিত হলে তার ভারী জরিমানা কিংবা কারাদণ্ড হতে পারে।