নেত্রী মমতাকে বাস্তব বোঝার পরামর্শ কল্যাণের

কলকাতা, ২২ জুলাই- বুধবার সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনায় সরব হলেন তারই শিবিরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে প্রকাশ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কল্যাণের বাদানুবাদ প্রকাশ্যে আসে। তারপরেই আজ ফের কল্যাণ বলেছেন, দিদিকে বাস্তবটা বুঝতে হবে। ছাব্বিশের নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পরেই তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। কালীঘাট শিবিরে যাঁরা থেকে গিয়েছেন, তারাও আর দিদির সব কথাকে ‘বেদবাক্য’ বলে মানতে নারাজ। সুযোগ বুঝলেই ফোঁস করছেন। এবার সরব হলেন কল্যাণ।

তবে একুশের মঞ্চ থেকে হঠাৎ করে নেমে যাওয়ার কারণ হিসেবে নিজের অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেন কল্যাণ। পাশাপাশি তার গলায় ক্ষোভের সুরও ছিল। ‘মমতাদির জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত আছি। কিন্তু দিদিকেও বুঝতে হবে বাস্তবটা কী। দিদিকে ভালবাসি, দিদিকে শ্রদ্ধা করি, দিদির জন্য সবকিছু করতে রাজি। কিন্তু দিদি যদি মনে করে, যা ইচ্ছা বলবে, তাতেই সব হবে, তা হবে না। দিদি যদি মনে অভিষেক আর ডেরেক যা বলবে, তা-ই হবে, তা-ও হবে না।’ একুশে জুলাইয়ের ঘটনা প্রসঙ্গে কল্যাণের দাবি, ১২টা ৫০ মিনিট নাগাদ তিনি বক্তৃতা শুরু করেন। তার পর বক্তৃতার সময় নিয়ে মমতার সঙ্গে কথা কাটাকাটির পর মঞ্চ থেকে নেমে যান কল্যাণ। তার পর নেত্রীকে তিনি একটি মেসেজ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন কল্যাণ। কল্যাণ বলেন, ‘কেউ তো দিদির কানের মধ্যে গুঁজেছে এক ঘণ্টা বক্তৃতা দিয়েছি। দিদি এমন এমন করে ঘড়ি দেখাচ্ছে। এক ঘণ্টা বলছে! এ সব আমি মেনে নেব? দিদির অত ঘন ঘন বিরক্ত হলে হবে না।’ একুশে জুলাই মমতার বক্তৃতার আগেই মঞ্চ ছাড়েন কল্যাণ। বাড়ি ফিরে যান। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কী এবার দল ছাড়বেন কল্যাণ। সেই জল্পনায় জল ঢেলে এই সাংসদের মন্তব্য, ‘বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইটা আমি দলে থেকেই করব। প্রয়োজনে ঝগড়া করব। কাল থেকে আমি অনেক মেসেজ পাচ্ছি, দল ছেড়ে যাবেন না। দল ছাড়ব কেন?’ তিনি আরও বলেন, ‘দিদি যদি বাস্তব না বোঝে, তা হলে দিদি যে দল তৈরি করেছে, তা নিজের হাতে শেষ করবে।’

Sumit Chakraborty: